অভিষেকেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখল কেপ ভার্দে
স্পোর্টস ডেস্ক : শেষ পর্যন্ত পারলো না স্পেন। তাদের রুখে দিলো অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দল কেপ ভার্দে। তাদের প্রতিরোধ, জমাট রক্ষণ আর গোলকিপারের নিপুণ সেভে গোল ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হলো শক্তিশালী স্পেনকে।
নিজেদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ইয়ামালকে শেষ মুহূর্তে মাঠে নামিয়েও কোনো লাভ হয়নি। পাওয়া যায়নি কোনো গোলের দেখা। এটাই হয়তো ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অম্যতম সেরা ড্র।
তাই তো চোখের পানি আর রাজ্যের হতাশায় মুখ ভারত করতে দেখা গেলো স্পেনের খেলোয়াড়দের। তারা হয়তো ম্যাচ শুরুর আগে এ কথা কল্পনাও করতে পারেনি।
শুরু থেকেই আটলান্টা স্টেডিয়ামে যেন এক অঘোষিত মহাকাব্য লিখে চলেছিলেন ৪০ বছর বয়সী কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। স্পেনের তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগকে পুরো প্রথমার্ধজুড়ে গোলবঞ্চিত রেখে এক অবিশ্বাস্য প্রতিরোধের গল্প তৈরি করেছেন তিনি।
ম্যাচের আগে ফুটবল বোদ্ধাদের অনেকেই যেখানে বড় ব্যবধানের জয়ের প্রত্যাশা করেছিলেন স্পেনের কাছে, সেখানে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগের জমাটবদ্ধ দেয়াল আর ভোজিনিয়ার অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন গোলশূন্য।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছিল স্পেন। মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করলেও প্রথমার্ধের দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভীতি ছড়াতে হিমশিম খেতে হয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের। তবে বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে নিজেদের আসল রূপ প্রকাশ করে স্প্যানিশরা। ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগটি হাতছাড়া করেন তোরেস, যার শটটি ক্রসবারে বাধা পেয়ে ফিরে আসে। ফিরতি বলে ওইয়ারসাবালের জোরালো হেড লক্ষ্যভেদে বাধা হয়ে দাঁড়ান ভোজিনিয়া।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের ঘটনাবহুল সেই কয়েক মিনিটে তোরেস ও লাপোর্তের অন্তত দুটি নিশ্চিত আক্রমণ দারুণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। দিনশেষে স্পেনের একের পর এক আক্রমণকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আটলান্টার গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের অবাক করে দিয়েই বিরতিতে যায় কেপ ভার্দে।
ম্যাচের দ্বিতীয় পর্বেও চলে কেপ ভার্দের লড়াই। স্পেন যেন আটকে যায় নিয়তির লেখা কোনো এক ট্র্যাজেডির কাব্য পুরাণে। গোল হয় না শত চেষ্টাতেও। এভাবেই ড্র করেও মাইটি স্পেনের সামনে কার্যত জিতে গেল কেপ ভার্দে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172738