সিট বণ্টন নীতিমালা সংস্কার ও শাহবাগ থানায় হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাদের বিচারের দাবিতে শিবিরের স্মারকলিপি প্রদান
ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সিট বণ্টন নীতিমালা সংস্কার, নবীন শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট এবং ক্যাম্পাস নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।
আজ ১৫ জুন (সোমবার) সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খানের নেতৃত্বে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)।
মতবিনিময়ে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের একটি গুরুতর সমস্যা, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সংকট নিরসনে একটি স্বচ্ছ, টেকসই ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ প্রস্তাবিত প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির খসড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনার্সে দুই বছর ও মাস্টার্সে এক বছর রি-অ্যাডমিশনসহ হলে আবাসিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে হলে শিক্ষার্থীদের অবস্থান আরও ঘনীভূত হবে, যা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য সিট প্রাপ্তি আরও সীমিত করতে পারে।
তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, কারণ তারা ভর্তি হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আবাসন সংকটে পড়ে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, "শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলাকারীদের ব্যাপারে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য বাজে উদাহরণ। জুলাই-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে ক্যাম্পাসে অপরাধ প্রবণতা আরও বহুগুণ বাড়বে। এর ফলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠবে, যার দায় বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।"
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হলে সংঘটিত কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পরবর্তীতে জগন্নাথ হলে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনারও নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সাক্ষাৎ শেষে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়—
১. পূর্বে প্রণীত আবাসিক সিট বণ্টন নীতিমালা অপরিবর্তিত রাখা
২. নীতিমালার ১০ ও ১১ নম্বর ধারা বহাল রাখা
৩. রি-অ্যাডমিশনভিত্তিক হলে অবস্থানের সুযোগ সীমিত করা
৪. নবীন শিক্ষার্থীদের হলে সিট প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা
৫. নীতিমালা সংশোধনে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণ
৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে অনলাইন জরিপ পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের মতামত গ্রহণ
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172722