দিনাজপুরে আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষে সফল কৃষক
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষে সফল হয়েছেন দিনাজপুরের কৃষক মো. ওয়াবাইদুল ইসলাম। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে গ্রীষ্মকালেও সফলভাবে ফুলকপি চাষ করে নতুন সম্ভাবনা দুয়ার উন্মোচন করেছেন চাষিরা। রবি মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত এসব সবজিতে ভালো দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে দিনাজপুর সদর উপজেলার উত্তর মহেশপুর গ্রামের কৃষক ওবায়দুল ইসলামের গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি পরিদর্শন করেছেন দিনাজপুর কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবু জাফর মোহাম্মদ সাদেক। তিনি বলেন, অসময়ে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষে একজন কৃষক ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। এই ধারাবাহিকতা চলমান রাখতে চাই।
দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের উত্তর মহেশপুর গ্রামের কৃষক মো. ওবায়দুল ইসলাম গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। খরিফ-১ মৌসুমে মাত্র ৩৩ শতক জমিতে আইসবল জাতের প্রায় ৫ হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করেন তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় ৬০ দিনের মধ্যেই তার জমি ভরে উঠেছে সাদা ফুলকপিতে। বর্তমানে ক্ষেত থেকেই পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে ফুলকপি ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষক ওবায়দুল ইসলাম জানান, এপ্রিল মাসের প্রথমদিকে জমি প্রস্তুত করে কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি ফুলকপির চারা রোপণ করেন। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ফুলকপি বাজারজাত করা সম্ভব হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা মুনাফা অর্জন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ওবায়দুলের সফলতা দেখে আশপাশের কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কৃষক মো. আব্দুর রহমান বলেন, গরমের সময় ফুলকপি চাষ সম্ভব, এটা আগে কল্পনাও করিনি। আগামী বছর অন্তত এক একর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষের পরিকল্পনা করছি।
আরেক কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, অন্যান্য সবজির দাম কমে গেলেও গ্রীষ্মকালীন ফুলকপির বাজার মূল্য ভালো থাকে। ফলে কৃষকরা দ্রুত লাভবান হতে পারেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হলে এই গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ সারা জেলায় ছড়িয়ে পড়বে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রীষ্মকালীন ফুলকপির চাষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, চারা, সার ও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ে অধিক লাভ পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। একইসাথে ভোক্তারা মৌসুমের বাইরে তাজা ফুলকপি পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।
দিনাজপুর অঞ্চলের উন্নত জাত উদ্ভাবন ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপির চাষ পরিচিত করা হয়। শুরুতে কৃষকেরা সীমিত আকারে চাষ করলেও মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ সফল হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172275