রংপুরের ফলের বাজারে সাধ্যের মধ্যে চাহিদা পূরণ ক্রেতাদের

রংপুরের ফলের বাজারে সাধ্যের মধ্যে চাহিদা পূরণ ক্রেতাদের

রংপুর জেলা প্রতিনিধি: মধুমাস জ্যৈষ্ঠের শেষ সময়ে রংপুরের বাজারগুলো জমে উঠছে বিভিন্ন ধরণের মৌসুমী রসালো ফল। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, জামরুল, লটকনসহ আরও হরেক রকম ফল। মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ সীমিত থাকায় বাজারে এসব ফলের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলেও এখন অনেকটাই সাধ্যের মধ্যে। যার কারণে বেড়েছে ক্রেতাদের আগ্রহ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জৈষ্ঠের শুরুতেই লিচুর সরবরাহ বেশি ছিলো। এরই মধ্যে রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম পাড়া শুরু হবে। এছাড়াও বাজারে এখন লটকন, আম, জাম, কাঠাল, আনারসসহ স্থানীয় ও উন্নত জাতের বিভিন্ন ফল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

রংপুরের সিটি বাজার, টাউন হল চত্বর, ধাপ, বাসটার্মিনাল, লালবাগ, মডার্ণ মোড়, মাহিগঞ্জ, রেলওয়ে স্টেশন ও কোর্ট বাজার এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অস্থায়ী দোকান বসিয়ে দেশীয় ফল বিক্রি করছেন।

এর মধ্যে বোম্বাই লিচু, মাদ্রাজি, চায়না-১, চায়না-৩, বেদানা, মোজাফফরপুরী, এলাচি, কদমি ও বারি জাতের লিচুসহ দেশীয় লিচু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে চায়না-৩ (হাইব্রিড), বোম্বাই ও মাদ্রাজ জাতের লিচুর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত বা হিমসাগর, ল্যাংড়া, রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, ফজলি, আশ্বিনা, মোহনভোগ ও বোম্বাই আম পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। এছাড়াও কাঁঠালের মধ্যে গালা, রসা, খাজা, ছোট খাজা, বড় খাজা, দেশি ও মধুসহ ছোটবড় কাঁঠালও রয়েছে। এছাড়াও বাজারে দেশি ও পাহাড়ি জাতের আনারস ও বিভিন্ন জাতের লটকন পাওয়া যাচ্ছে।

টাউন হল চত্বরে ফল কিনতে আসা ক্রেতা নুর আলম বলেন, দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ অনেক ভালো। মৌসুমের শুরুতে দাম একটু বেশি হলেও এখন দাম কিছুটা কম। সব ধরণের ফল পাওয়া যাচ্ছে হাতের নাগালে। মৌসুমি ফল প্রায় প্রতিদিন কেনা হয়।

পাইকারী ফল বিক্রেতা বাচ্চু মিয়া বলেন, মৌসুমের শুরুর দিকে লিচু বিক্রি করেছি। এখনও করছি, তবে লিচুর সরবরাহ কয়েকদিনের মধ্যে কমে যাবে। তাই এখন লটকন বিক্রি শুরু করছি। তবে কয়েক বছরের তুলনায় এখন ফলের সরবরাহ ভালো। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার রংপুর জেলায় দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে। এরপরে লটকন, জাম, কাঠাল, লিচুর চাষ হয়েছে। যার কারণে বাজারে তুলনামূলক ফলের সরবরাহ বেশি রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172256