কৃত্রিম সংকটে অস্থির চালের বাজার, ভরা মৌসুমে বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার : আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। ইরি-বোরো মৌসুমে সাধারণত চালের বাজারে স্বস্তি ফেরার কথা থাকলেও দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। ঈদের পর সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ থেকে ২৫ কেজির প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা পর্যন্ত। চালের এই বাড়তি দামে চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারসহ বেশকিছু বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিআর-৪৯ চাল বর্তমানে দাম বেড়ে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ৫২ থেকে ৫৩ টাকায় বিক্রি হয়। রঞ্জিত চাল ৪৭ থেকে ৪৯ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি, বিআর-২৮ চাল ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা দাম বেড়ে ৫৮ থেকে ৫৯ টাকা এবং মৌসুমের নতুন কাটারিভোগ চাল প্রতি কেজি মানভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ইরি-বোরো মৌসুমের শেষদিকে বাজারে ধানের সরবরাহ কমে এসেছে। বর্তমানে যে ধান বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, তার বড় অংশই মজুতকারীদের হাতে। ফলে ধানের দাম বেড়েছে। তবে চালের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মিল মালিক ও মজুদদাররা বরাবরেই মতোই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন। আর মিল মালিকরা বলছেন, মজুদ কমে যাওয়া ও ধানের দাম বাড়ার কারণেই বাড়তি চালের দাম। তবে ক্ষুব্ধ মত ক্রেতাদের। তারা বলছেন, কৃষকের কাছে ধান নেই, মিল মালিকরা ধান মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চালের বাজার অস্থির করে তুলেছেন।
এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট চালের প্রায় ৫৫ শতাংশ বোরো মৌসুমে উৎপাদন হয়। এবারও রেকর্ড পরিমাণ চাল উৎপাদন হয়েছে। ফলন ভালো হলে সরবরাহ বাড়ে, আর বাজারে দাম কমে। তবে এবারও চিত্র উল্টো।
শহরের ফতেহ আলী বাজারের চাল ব্যবাসয়ী মিন্টু দাস বলেন, এসময়ে সাধারণত চালের দাম কমে। কিন্তু এবার উল্টো প্রতি বস্তায় ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। চালের দাম বাড়ার পিছেন ধানের দাম ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াও কারণ হতে পারে।
চাল ব্যবসায়ী রনি ইসলাম বলেন, তাদের মতো খুচরা ব্যবসায়ীরা খুব বেশি লাভ করে চাল বিক্রি করছেন এমন নয়, পাইকারি মোকামেই বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। এছাড়াও পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে, ফলে বাজারে দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।
এই ব্যবসায়ী আরও জানান, বিআর-৪৯ চাল প্রতি ২৫ কেজির বস্তা কয়েক দিন আগে ১২শ’ থেকে ১২শ’ ৮০ টাকা দাম পড়লেও বর্তমানে তার দাম পড়ছে ১৩শ’ থেকে ১৩শ’ ৫০ টাকা, বিআর-২৮ (নতুন) চালের দাম বস্তা প্রতি ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৪শ’ ৫০ টাকা এবং কাটারিভোগ (নতুন) ১৭শ’ ৫০ এবং পুরাতন চাল ১৮শ’ ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
চালের খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, যেই সময়ে ধান ওঠে, সেই সময়ে মিল মালিক বা বড় বড় ব্যবসায়ীরা মজুদ করে। যখন কৃষকের কাছে ধান থাকে না, তখন তারা বেশি দামে ধান বাজারজাত করেন। প্রতি বছরই এই সময়ে মজুতদাররা সিন্ডিকেট করে ধান ও চালের দাম বাড়ান। তাদের অভিযোগ, মজুতদারদের কারণে ধানের দাম বেশি। তাছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি প্যাকেটজাত করার উদ্দেশে বেশি দামে চাল কিনছে। এতে করে বাজারে চালের সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে ক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করেই চালের দাম বেড়ে গেছে, অথচ ইরো-বোরোর ভরা মৌসুম চলছে। আগে যে দামে চাল কিনেছি, এখন তার চেয়ে প্রতি কেজিতে ৩-৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে তা কিনতে হচ্ছে। সব ধরনের চালের দামই বেড়েছে। ভরা মৌসুমে এভাবে হঠাৎ চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাদের মতো নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, কৃষকরা যখন ধান বিক্রি করে তখন দাম থাকে না, আর এখন কিনতে গেলে চালের দাম বেশি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172250