পাবনার বেড়ায় সংঘর্ষের জেরে স্থবির বাজার-নৌঘাট 

পাবনার বেড়ায় সংঘর্ষের জেরে স্থবির বাজার-নৌঘাট 

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া পৌর এলাকার হুরাসাগর নদের পাড়ে অবস্থিত ডাকবাংলা নৌঘাটে থেমে গেছে নৌকার যাত্রী ওঠানামা, নেই মাঝিদের ব্যস্ততা। ঘাটে এসে ফিরে যাচ্ছেন যাত্রীরা। কেউ বিকল্প পথে, কেউ বাড়তি খরচ করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। একই অবস্থা পাশের ডাকবাংলা বাজারেও। সংঘর্ষের আতঙ্কে বেশিরভাগ দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। গত ঈদের পর থেকে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই বাজার ও নৌঘাট কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের পর থেকে ডাকবাংলা নৌঘাট ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। কখনও হাতিগাড়া ও শম্ভুপুর, কখনও বড় পায়না ও ছোট পায়না, আবার কখনও শম্ভুপুর ও চরবর্ণিয়ার লোকজনের মধ্যে বিরোধের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

এরমধ্যে, ডাকবাংলা-চরবর্ণিয়া নৌঘাটে সংঘর্ষের জেরে টানা ১৪ দিন ধরে খেয়া নৌকা চলাচল বন্ধ। এতে বেড়া ও পাশের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৯মে ডাকবাংলা ঘাট এলাকায় শম্ভুপুর ও চরবর্ণিয়া গ্রামের কয়েকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে ডাকবাংলা ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে চরবর্ণিয়া ঘাটে যাওয়া মাঝিদের মারধর ও নৌকা আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকে দুই ঘাটের মধ্যে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ডাকবাংলা ঘাটের মাঝি আলাউদ্দিন বলেন, ১৪ দিন ধরে কাজ করতে পারছেন না। ঘাটের আয় দিয়েই সংসার চলে তাদের ফলে পরিবার নিয়ে বর্তমানে কষ্টে আছেন তারা। ঘাটের শ্রমিক মালেক সর্দার বলেন, এই ঘাটকে কেন্দ্র করে প্রায় ৬৬ জন শ্রমিক কাজ করেন।

এখন সবাই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ডাকবাংলা বাজারের সিমেন্ট ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ইকবাল বলেন, বারবার সংঘর্ষের জেরে লুটপাট হওয়ায় অনেকেই এখন আগের মতো মাল তুলতে সাহস পান না। সংঘর্ষের খবর পেলেই আগে দোকানের মাল সরানোর চিন্তা করতে হয়।

বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লাবিব আব্দুল্লাহ বলেন, এলাকায় যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। বর্তমানে আগের মতো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নেই। কেউ নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কথা জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনাল্ট চাকমা বলেন, বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই ঘাট চালু হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172221