নীলফামারীর ডিমলায় নামজারি শুনানিতে জাল দলিল, দলিল লেখক ও জমির মালিক গ্রেফতার
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ভূমি অফিসে নামজারি শুনানির সময় জাল দলিল প্রদর্শনের অভিযোগে এক দলিল লেখক ও এক জমির মালিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। দলিল যাচাই-বাছাইয়ে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়ার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রওশন কবিরের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে এ ঘটনা উদঘাটিত হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন বিকেলে উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে সাব-কবলা দলিল উপস্থাপন করা হলে দলিলটির বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রওশন কবিরের সন্দেহ হয়। পরে তিনি দলিলটির বিভিন্ন তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং রেজিস্ট্রি অফিসে নথিপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন।
যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, মূল দলিলের তফসিলের পাতা পরিবর্তন করে ভিন্ন তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নামজারির আবেদনকারী বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া ডাঙ্গারহাট এলাকার মৃত গোলজার হোসেনের ছেলে মো. লিয়াকত আলী(৪৭) এবং ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মধ্য ছাতনাই ময়দানের ডাঙ্গা গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে তহমিদুল ইসলাম সুমনকে (৪২) আটক করা হয়। পরে তাদের ডিমলা থানায় সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা ভূমি অফিসের পেশকার তরনী কান্ত বাদি হয়ে ডিমলা থানায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে মামলা দায়ের করেন। ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ও জালিয়াতির অন্যতম কারণ হচ্ছে ভুয়া ও বিকৃত দলিল ব্যবহার। এসব জাল নথির কারণে প্রকৃত মালিক দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার হন এবং আদালতে মামলা-মোকদ্দমার জটিলতা সৃষ্টি হয়। ফলে নামজারি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে নথিপত্রের কঠোর যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের এ ধরণের কঠোর অবস্থান ভূমি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জাল দলিলের ব্যবহার ও ভূমি জালিয়াতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172138