বাগেরহাটে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত কৃষকদল নেতার দাফন সম্পন্ন
বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেলে আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত কৃষকদল নেতা বাদলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।এর আগে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
জানাজায়, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, বিএনপি নেতা খান মনিরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান টুটুল, জেলা কৃষক দলের সভাপতি আসাফুদৌলা জুয়েলসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
খান মনিরুল ইসলাম বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস সময় ক্ষেপন করতে পারবে না। আসামীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রশাসনের সক্ষমতা রয়েছে।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) রাতে বারুইপাড়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে ফকিরহাট যাওয়ার পথে নিয়তির মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হয় কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল। এসময় বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল গুরুতর আহত হয়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করে। আর গুরুত্বর আহত আব্দুল্লাহ মোড়ল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ রয়েছে। এঘটনায় বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তবে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, ফকিরহাট থানা পুলিশ, বাগেরহাট সদর থানা পুলিশসহ জেলা পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।
এদিকে এ কৃষক দল নেতার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বুধবার দুপুরে বারুইপাড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল, বাগেরহাট জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তারিকুল ইসলাম, জেলা কৃষকদলের সভাপতি আসাফুদৌলা জুয়েল, বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মাসুদ প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা সরাসরি কাউকে হত্যাকারী না বললেও, এই হত্যাকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক ও আধিপত্যে’র জের বলে আখ্যা দিয়ে জামায়াতকে দায়ী করছে বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ ও বিক্ষোভে ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দেওয়া গুড়িয়ে দেও’, ‘খুনিদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’ আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে, একাত্তরের পরাজিত শক্তিসহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা, জামায়াত ইসলামের ৩টি স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর করেছেন। এর মধ্যে বুধবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া বাজারে ২নং ওয়ার্ড বারুইপাড়া জামায়াত কার্যালয় ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আর ভোর রাতে আড়পাড়া গ্রামে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয় ভাঙচুর করে একদল লোক।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ওই হামলার সঙ্গে জড়িত। তারা এলাকায় থাকা জামায়াতের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
রারুইপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, বারুইপাড়া বাজারে আমাদের দুইটা অফিসে। একটি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অফিস, আর একটি জামায়াতের। সোমবার দুপুর দেড়টা-দুইটার দিকে বিএনপির একদল নেতাকর্মী এসে ওই দুটি অফিসই ভেঙে তছনছ করে। হামলার আগে আমাদের অফিসের বিপরীতে থাকা একটি এজেন্ট ব্যাংকের সিসি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে তাঁরা। আর গেল গতরাতে বাদল ভাইকে হত্যার পর একদল লোক আড়পাড়ার জামায়াতের কার্যালয়টি ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, আমাদের উভয় দলের মাঝে রাজনৈতিক প্রতিযোগীতা আছে। কিন্তু এমন বড় কোন বিরোধ নেই। ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা। আমরাও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চাই। এই হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে এখন তারা আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক বলেন, গতকাল রাতে সামান্য কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে আজ (বুধবার) কোথাও কোন ভাংচুর বা সহিংসতা হয়নি। আমরা নেতাকর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেষনা দিয়েছি, কেউ কোন প্রকার আইন বিরোধী কাজ করতে পারবে না। আইন হাতে তুলে না নিতে নেতাকর্মীদের কঠোর ভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনবে।
এ দিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা রেজাউল করিম। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
জানতে চাইলে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন বলেন, ভাঙচুরের কথা আমরা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানাজা শেষে সন্ধ্যায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে হত্যাকারীদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।