মোংলায় মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক

মোংলায় মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক

বাগেরহাটের মোংলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সদস্যকে আটক এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) মধ্যরাতে মোংলা ও রামপালে বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

আটকরা হলেন, মো. রনি হাওলাদার, মেহেদী হাসান, মো. সজীব আহমেদ জয়, মো. সাজেদুল ইসলাম, মো. নাজমুল শেখ ও তানভীর হোসেন। 

এই চোর চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে সুসংগঠিতভাবে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল, যা এই চক্রের দীর্ঘদিনের অপতৎপরতার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আন্তঃজেলা চোর চক্রের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আটকদের বিরুদ্ধে বুধবার সকালে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুপুরের দিকে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মোংলা বন্দরের প্রাণিসম্পদ কোয়ারান্টাইন স্টেশনের অফিস সহকারী শেখ আল-আমিন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মার্কিন জোয়াদ্দারের মোটরসাইকেল দুটি দিগরাজ বাজারের শাহিন হোটেলের সামনে থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে চুরি হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যাতায়াতের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। 

গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, আটক রনি হাওলাদার এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করত এবং চুরি করা মোটরসাইকেলগুলো দ্রুততম সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সরিয়ে ফেলে বিক্রি করে দিত। ভুক্তভোগীদের মতে, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে জনবহুল এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল, যার ফলে সাধারণ মালিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, দিগরাজ বাজারসহ মোংলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরার অপর্যাপ্ততা এবং নজরদারির অভাবকে পুঁজি করেই এই চক্রটি নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল।

‎ঘটনার বিষয়ে মোংলা থানার কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে রনি হাওলাদারের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ার পরই মূলত এই চক্রের মূল নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়েছে। 

পুলিশের ভাষ্যমতে, রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে অভিযান চালিয়ে বাকি পাঁচ সহযোগীকে আটক করা সম্ভব হয়। পুলিশের এই সফল অভিযানে উদ্ধারকৃত চারটি মোটরসাইকেলের মালিকদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এই চক্রটি কেবল মোংলা বা রামপাল নয়, বরং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও তাদের চুরির জাল বিস্তার করেছিল। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই চক্রের সাথে অন্য কোনো বড় কোনো সিন্ডিকেট বা চোরাকারবারি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডের আবেদনসহ অধিকতর তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

স্থানীয়দের দাবি, এই ধরনের চক্রের সদস্যদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ সরকারি বা বেসরকারি কোনো সম্পদের ওপর হাত দেওয়ার সাহস না পায়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172069