আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে মেসির নতুন রেকর্ড
স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির জন্য কখনো কখনো মাঠে নামতে বেশি সময় লাগে না; লাগে শুধু একটি মুহূর্ত। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শেষ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে সেটাই আবার দেখা গেল। শুরুতে বেঞ্চে থাকা মেসি দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে প্রথম স্পর্শেই পেনাল্টির পথ তৈরি করলেন, দ্বিতীয় স্পর্শে নিজেই গোল করলেন এবং গড়ে ফেললেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নতুন রেকর্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। গোল করেছেন ভ্যালেন্তিন বারকো, লিওনেল মেসি ও থিয়াগো আলমাদা। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল মেসির মাঠে নামা এবং তার পরের কয়েক মিনিট।
মেসি মাঠে নামেন দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯ মিনিটে, জিউলিয়ানো সিমেওনের বদলি হিসেবে। মাঠে নেমেই প্রথম স্পর্শে লাউতারো মার্তিনেসকে গোলরক্ষকের মুখোমুখি করে দেন তিনি। লাউতারো সেই সুযোগ থেকে সরাসরি গোল করতে না পারলেও বক্সে ফাউলের শিকার হন। পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা।
এরপর নিজের দ্বিতীয় স্পর্শেই গোল করেন মেসি। পেনাল্টি থেকে বাঁ দিকে উঁচু শটে আইসল্যান্ড গোলরক্ষক এলিয়াস ওলাফসনকে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেই গোলেই আর্জেন্টিনার লিড দাঁড়ায় ২-০।
গোলটি মেসির জন্য শুধু বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস ফেরানোর মুহূর্ত নয়, রেকর্ডেরও। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৬ দিন বয়সে গোল করে তিনি এখন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা ফুটবলার। এত দিন এই রেকর্ড ছিল আনহেল লাবরুনার। ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩৮ বছর ৯ মাস ৯ দিন বয়সে গোল করেছিলেন আর্জেন্টিনার সাবেক এই ফরোয়ার্ড।
মেসি আগেই আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গোলটি তাঁর জাতীয় দলের জার্সিতে ১১৭তম গোল হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে চোট-শঙ্কা কাটিয়ে এমন গোল আর্জেন্টিনার জন্য তাই শুধু পরিসংখ্যান নয়, বড় মানসিক স্বস্তিও।
এই গোলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরোনো এক স্মৃতিও। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল, আর সেই মিস দীর্ঘদিন তাঁর বিশ্বকাপ স্মৃতির অস্বস্তিকর অংশ হয়ে ছিল। আট বছর পর ভিন্ন প্রেক্ষাপট, ভিন্ন মঞ্চ, ভিন্ন টুর্নামেন্টের আগে—তবু প্রতিপক্ষ সেই আইসল্যান্ড। এবার পেনাল্টি থেকে ভুল করেননি মেসি।
মেসি শুধু গোল করেই থামেননি। শেষ দিকে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আক্রমণেও ছিলেন তিনি। তাঁর এগিয়ে দেওয়া বল থেকে রদ্রিগো দি পল ডান দিক দিয়ে ক্রস করেন, আর থিয়াগো আলমাদা সহজ ফিনিশে গোল করেন। বদলি হিসেবে নেমে প্রায় ২০ মিনিটেই ম্যাচে নিজের প্রভাব বুঝিয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।হ্যামস্ট্রিংয়ের অস্বস্তির কারণে আগের প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি নেয়নি আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডের বিপক্ষেও শুরু থেকে খেলানো হয়নি। কিন্তু শেষ দিকে মাঠে নেমে মেসি যে ছন্দ দেখালেন, তা বিশ্বকাপের আগে স্কালোনির দলের জন্য বড় স্বস্তি।
আর্জেন্টিনা এখন পুরো মনোযোগ দেবে বিশ্বকাপের দিকে। ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু হবে তাদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান। তার আগে শেষ প্রস্তুতিতে জয়, মেসির গোল, আর নতুন রেকর্ড সব মিলিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ল।
মেসি বিশ্বকাপে যাচ্ছেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ আসরে। বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই, কিন্তু আইসল্যান্ডের বিপক্ষে কয়েক মিনিটেই তিনি আবার মনে করিয়ে দিলেন তাঁর ক্ষেত্রে বয়স এখনো শুধু সংখ্যা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172007