ঢাবির গ্রন্থাগারে এখনও মুজিব-হাসিনার প্রচ্ছদ সাময়িকী, কী বলছে প্রশাসন

ঢাবির গ্রন্থাগারে এখনও মুজিব-হাসিনার  প্রচ্ছদ সাময়িকী, কী বলছে প্রশাসন

ঢাবি প্রতিনিধি: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ‘নিউ অ্যারাইভাল’ (নতুন আগত) সাময়িকীর তালিকায় এখনও স্থান করে আছে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রচ্ছদের একটি ম্যাগাজিন। একইসঙ্গে সেখানে দেখা গেছে মুজিব শতবর্ষের লোগোসংবলিত একাধিক জার্নাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আওয়ামীপন্থী উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের ছবি সংবলিত প্রকাশনাও।

বিষয়টি গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের নজরে না এলেও শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি এড়ায়নি। এ নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের রেফারেন্স শাখা পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পায় দৈনিক করতোয়া। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রন্থাগারের নিচতলায় অবস্থিত রেফারেন্স শাখার ‘নিউ অ্যারাইভাল (সাময়িকী)’ টেবিলে শেখ হাসিনার প্রচ্ছদসংবলিত ‘এলকপ মাসিক বুলেটিন’ প্রদর্শিত হচ্ছে।

এছাড়া মুজিব শতবর্ষের লোগোযুক্ত অন্তত তিনটি জার্নাল এবং ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ প্রকাশিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বার্তা’র দুটি সংখ্যাও সেখানে রাখা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত ওই পত্রিকার প্রচ্ছদে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের ছবি দেখা যায়।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উপ-গ্রন্থাগারিক মিসেস মোনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি জানি না এগুলো কীভাবে এখনও সেখানে রয়েছে। বিষয়টি এখনই দেখছি এবং সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করছি।”

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা গাউসুল হক বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। এত বড় গ্রন্থাগারে এত সামগ্রী থাকায় এটি চোখ এড়িয়ে গেছে। তবে বিষয়টি জানা মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকব।”

উল্লেখ্য, সাময়িকী (Periodical) হলো নির্দিষ্ট সময় অন্তর—যেমন সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক—নিয়মিতভাবে প্রকাশিত পত্রিকা, ম্যাগাজিন বা জার্নাল। এসব প্রকাশনায় সংবাদ, গবেষণা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিনোদন ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/171933