মাস্টারপ্ল্যান মোতাবেক বগুড়াকে উন্নয়ন করা হবে
বগুড়ার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গৃহীত পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক করতোয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রথম প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। সাক্ষাৎকারে তিনি নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা জানান। সাক্ষাৎকার: স্মৃতি সঞ্চায়িতা অর্থি ।
করতোয়া : ১৭ বছরের বঞ্চিত জেলায় প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ চ্যালেঞ্জ কোনটি মনে করছেন?
এম আর ইসলাম স্বাধীন: এই সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যানজট, ফুটপাত দখল এবং মানুষের ইচ্ছাকৃতভাবে আবর্জনাগুলো রাস্তায় ফেলে দেওয়া। তাই আমি নগরবাসীকে অনুরোধ করবো -আপনারা নিজের বাড়ি যেভাবে পরিচ্ছন্ন রাখেন, নগরটাকেও সেভাবে পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিশ্রম করুন। আমরা আপনাদের সর্বত্র সহযোগিতা করবো।
করতোয়া: সিটি কর্পোরেশনে যদি কোনো দুর্নীতি আপনার চোখে পড়ে, তার জন্য কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?
এম আর ইসলাম স্বাধীন: আমি এখানে এসে যোগদান করার পর আমার স্টাফদের সাথে বসে ওনাদের বলে দিয়েছি আমিসহ আমরা সবাই কিন্তু একটা পরিবার। এখানে আপনারা দুর্নীতি করার চিন্তাভাবনা মাথায় নিবেন না। আগে কী হয়েছে আমি সব জানতে চাই না। তবে এখন প্রত্যেকটা ফাইল আমি চেক করছি; অ্যাসেসমেন্ট কীভাবে করা হয়েছে, ট্রেড লাইসেন্সটা ঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না সব দেখছি। ইনশাল্লাহ, দুর্নীতি দূর হয়ে যাবে।
করতোয়া: ফুটপাত দখল করে থাকা হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে আপনার তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
এম আর ইসলাম স্বাধীন: আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেছি যে, দোকানের সামনে হকার বসলে তারা দোকানদারকে কিছু টাকা দেয়, কিছু রাজনৈতিক কর্মীরাও ওখান দিয়ে টাকা নেয়, আবার প্রশাসনের লোকও কিছু নেয়। এমনকি আমার সিটি কর্পোরেশনের লোকও কিছু পায়। আমি ইনশাল্লাহ এই জিনিসটা আপনাদের পরিষ্কার করে দেবো।
করতোয়া: বিভিন্ন জায়গায় অনেক প্রকল্প উদ্বোধন হচ্ছে, কিন্তু সঠিক সময়ে শেষ করতে পারবেন কি না? কী মনে করেন আপনি?
এম আর ইসলাম স্বাধীন: আমার প্রিয় নেতা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উনি খুব দিলখোলা মানুষ। উনি আমাকে বলে দিয়েছেন, “প্রজেক্ট করে তুমি নিয়ে আসো, কাজ করে যাও; অর্থ সংস্থান করার সমস্ত দায়িত্ব আমার।”
করতোয়া: বিগত সরকারের বগুড়াবাসীর প্রতি একটি বিমাতাসুলভ আচরণ ছিল, যার কারণে বগুড়া পৌরসভাকে সেরকম কোনো বরাদ্দই দেওয়া হয়নি। তবে এখন বগুড়াবাসীর যেটি প্রাপ্য, সেটি আসলে তারা পাবে কি না?
এম আর ইসলাম স্বাধীন: আপনারা ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছেন যে, আমরা ঈদের দুই দিন আগে গোয়াইল রোডটা সংস্কার করার জন্য ওখানে ২৬ কোটি টাকার একটা টেন্ডার করেছি। ওই কাজটা এখন শুরু হয়ে যাবে। এছাড়াও মালতিনগর থেকে বেজোড়াঘাট পর্যন্ত ওখানে ২২ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে এবং ঠিকাদারও নিযুক্ত হয়েছে। আমাদের মাস্টারপ্ল্যান মোতাবেক উন্নয়ন করতে হবে।
করতোয়া: বগুড়া শহরের ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা গুলো যত্রতত্র স্ট্যান্ড করছে। এই স্ট্যান্ডগুলোর জন্য আসলে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
এম আর ইসলাম স্বাধীন: আমরা কিছু রিকশাওয়ালাকে ইন্ডিকেট (চিহ্নিত) করে রাখছি। আমরা দ্রুতই লাইসেন্স ব্যবস্থায় যাবো। লাইসেন্সের বাইরে কোনো ড্রাইভার বা রিকশা সিটি কর্পোরেশনে ঢুকতে পারবে না। আমরা লাল আর হলুদ রঙের কোডের চিন্তাভাবনা করে রাখছি। একটা গ্রুপ বিকেল পর্যন্ত চালাবে, আরেকটা গ্রুপ বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চালাবে। তাহলে আলটিমেটলি এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
করতোয়া: ঈদের পর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ অনেক প্রশংসা করেছে। আপনার কাছে কেমন লাগছে?
এম আর ইসলাম স্বাধীন: দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক সাহেব মোজাম্মেল হক ভাই উক্ত এলাকায় এসেছিলেন এবং আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। আমি নিজেই দুপুর দুটার সময় পরিদর্শনে বের হয়েছিলাম। আমি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বলে রেখেছিলাম যেন একটা আবর্জনা বা ঈদের বর্জ্যও রাস্তায় পড়ে না থাকে। ঘোরার পর দেখলাম তারা অনেক উৎসাহ পেয়েছে এবং চমৎকার কাজও করেছে।
করতোয়া: বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে যদি আপনার কিছু বলার থাকে?
এম আর ইসলাম স্বাধীন: বগুড়াবাসীর কাছে আমার একটা আবেদন সদ্যভূমিষ্ঠ একটা শিশুকে বড় করতে হলে একটু সময় দিতে হয়। যে শিশু আজ জন্মগ্রহণ করেছে, সে তো একদিনেই স্কুলে যেতে পারবে না; তাকে আস্তে আস্তে বড় করতে হবে। আপনারা আমাকে একটু সুযোগ দেন, সময় দেন। ইনশাল্লাহ, আপনার-আমার এই শহরকে আমি একটা মহানগর এবং সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলবো।
করতোয়া: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ,আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য ।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/171901