পঞ্চগড়ের সীমান্তের শুন্য রেখায় তিনদিন ধরে অবস্থান করছে নারী-শিশুসহ ১০ জন
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: এরই মধ্যে কেটে গেছে তিনদিন তিন রাত। এখনও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। রাতের বজ্র বৃষ্টি আর দিনে প্রখর রোদের মধ্যে অমানবিকভাবে অবস্থান করে কেবলই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ১০ নারী-পুরুষ ও শিশু।
পঞ্চগড় জেলা সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের ভারতীয় শুন্যরেখার আবাদি জমির আইলেই তাদের বেঁচে থাকার আকুতি। তাদের নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে ভারতের বিএসএফ ও বাংলাদেশের বিজিবি।
সেখানে থেকে তিন বেলার মধ্যে এক বেলার খাবারও তাদের মুখে যায় না। দিনের বেলা প্রকৃতির ডাকে সাড়া পর্যন্ত দিতে পারছেন না তারা। আজ রোববার (৭ জুন) দুপুরে বড়বাড়ি সীমান্তের বাংলাদেশের শুন্যরেখায় গিয়ে দেখা গেছে, বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকার ভারতীয় শুন্যরেখার জমির আইলেই এখন পর্যন্ত অবস্থান করছেন তিন শিশু, দুই নারীসহ ১০ জন।
আইলের দু’পাশের জমিতে পানি জমে থাকায় তারা কোথাও নড়াচড়া পর্যন্ত করতে পারছেন না। প্রখর রোদের মধ্যে অবস্থান করে অমানবিকভাবে দিন-রাত অতিবাহিত করছেন তারা। তিনদিন ধরে তারা কাদা-পানির মধ্যেই শুয়ে বসে সময় পার করছেন তারা। মাথার ওপর পলিথিন ধরে কোনভাবে রোদ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন কখন কখনও। নেই তিনবেলার খাবারের নিশ্চয়তা। নেই বেঁচে থাকার জন্য পানি। কোন দেশের পক্ষ থেকে তাদের খাবার ও পানির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে না।
সকালে বিজিবির পক্ষ থেকে খাবার পানি দেয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ বাধা দেয়। দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে বিএসএফ ভারতীয় শুন্যরেখায় অবস্থানকারী ১০ জনকে আবারও বাংলাদেশের শুন্যরেখায় ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। এ সময় ওই সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বিএসএফ তাদের নিয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে উভয় পক্ষই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আজ রোববার (৭ জুন) নতুন করে কোন পতাকা বৈঠক হয়নি। ভারতীয় শুন্যরেখার পাশে কাঁটাতারের বেড়ার কারণ ওপাশ থেকে কেউ না আসতে পারলেও সকাল থেকে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর দূরান্ত থেকে আসা উৎসুক জনতা ভিড় জমায় বাংলাদেশ এলাকায়। মাইকে বিজিবি তাদের কাছাকাছি না দিয়ে দূরে যেতে বার বার অনুরোধ করে।
বড়বাড়ি প্রধানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, বিএসএফ মানুষ না, অমানুষ। আইন না মেনে তারা তাদের নাগরিকদের এভাবে খোলামাঠে ফেলে রেখেছে। বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হলে আমরা দৌড়ে বাড়িতে গেলেও তিনদিন ধরে এই মানুষগুলো সেখানেই পড়ে আছে। আমরা তাদের খাবার ও পানি দেয়ার চেষ্টা করলেও দিনের বেলা বিজিবি আমাদের তাদের কাছে যেতে দেয় না। এমন নির্মম ও অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ সীমান্তের বাংলাদেশ প্রান্তের লোকজনও।
পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, আমাদের আনার সময় সাথে করে যা এনেছিলাম তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। কেউ আমাদের খাবার ও পানি দিচ্ছে না। খাবার ও পানি দিতে আসলে বিজিবি-বিএসএফ তাদের আমাদের কাছে ভিড়তে দিচ্ছে না। এর চেয়ে আমাদের মরে যাওয়াও ভাল।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ঘাগড়া কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আজাদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমরা সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছি। পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আমরা তাদের ভারতীয় এলাকার মধ্যে রাখতে বাধ্য করেছি। বিএসএফ বার বার তাদের আমাদের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। আমাদের জমির এক ইঞ্চি ভেতরেও আমরা তাদের আসতে দেব না। তারা জোর প্রয়োগ করলে আমরাও বসে থাকবো না।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোররাতে পঞ্চগড় উপজেলা সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮ এর ৫ নং সাব পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় বিএসএফ তাদের শুন্যরেখার আবাদি জমির আইলেই আটকে রাখে। এখন পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করছে। এরই মধ্যে সীমান্তের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন সুরাহা হয়নি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/171699