উত্তরাঞ্চলে প্রথম বগুড়ায় বধিরদের জন্য স্থাপন করা হচ্ছে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট

উত্তরাঞ্চলে প্রথম বগুড়ায় বধিরদের জন্য স্থাপন করা হচ্ছে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট

স্টাফ রিপোর্টার : জন্মগত বধির এবং কানে শুনতে না পাওয়া রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য গত ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এটিই হবে দেশের উত্তরাঞ্চলে এই ধরনের প্রথম কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শজিমেক হাসপাতালের পুরানো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) বিভাগটি নতুন ভবনে স্থানান্তরের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই খালি পড়ে থাকা কক্ষ ও অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়েই কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নাক-কান-গলার চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান বেলাল জানান, কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি হল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা সংবেদনশীল শ্রবণশক্তি হ্রাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আংশিক শ্রবণশক্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে যখন প্রচলিত শ্রবণযন্ত্রগুলি আর পর্যাপ্ত সুবিধা প্রদান করে না। কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট হল একটি ছোট, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ইমপ্লান্ট করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় উপাদান নিয়ে গঠিত।

এই অংশগুলি শব্দ ধারণ করতে, প্রক্রিয়া করতে এবং মস্তিষ্কে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংকেত সরবরাহ করতে একসাথে কাজ করেg হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মহসিন এই পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট বসানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি।

যেহেতু হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগকে অন্যত্র সরানোর পর ওই বিভাগটি খালি পড়ে আছে, তাই আমরা সেই জায়গাটিকেই এই কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছি। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে আমাদের এই অঞ্চলের রোগীরা আধুনিক এই চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

”চিকিৎসকদের মতে, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট হলো একটি উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কানের ভেতরে স্থাপন করা হয়। সাধারণ শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র (হেয়ারিং এইড) যেখানে শুধু শব্দ বাড়িয়ে দেয়, সেখানে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কানের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কাজ নিজে করে সরাসরি শ্রবণ স্নায়ুতে সংকেত পাঠায়।

এর ফলে পুরোপুরি বধির ব্যক্তিও শব্দ শুনতে পান। এই চিকিৎসার মূল ধাপ তিনটি। প্রথমে সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচার, দ্বিতীয় ধাপে ডিভাইস সচল করা এবং শেষ ধাপে নিয়মিত স্পিচ থেরাপি বা বাক-প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রোগীকে কথা বলা শেখানো। বর্তমানে এই চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় দেশের হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি হাসপাতালে সমাজকল্যাণ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রকল্পের অধীনে এই কার্যক্রম চালু রয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল অন্যতম। তবে ঢাকার বাইরে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কোনো সরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত এই সুবিধা নেই।

শজিমেক হাসপাতালে এই সুবিধা চালু হলে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার হাজারো জন্মগত বধির ও কানে কম শোনা রোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। বর্তমানে এই অঞ্চলের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে তাদের শিশুদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিপুল অর্থ খরচ করে ঢাকা অথবা দেশের বাইরে ছুটতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ে এই প্ল্যান্ট স্থাপিত হলে প্রান্তিক মানুষ নামমাত্র মূল্যে বা সরকারি সহায়তায় বিনামূল্যে এই পুনর্বাসন সুবিধা পাবেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/171564