ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ মাসে ৬টি কর্মসূচি করেছে ছাত্রলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ মাসে ৬টি কর্মসূচি করেছে ছাত্রলীগ

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মোট ছয়টি পৃথক কর্মসূচির ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পোস্টার লাগানো, ঝটিকা মিছিল, মানববন্ধন, ব্যানার টাঙানো ও লিফলেট বিতরণ। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ জুন পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। অনেক কর্মসূচি ভোররাত বা আকস্মিকভাবে স্বল্পসংখ্যক নেতাকর্মীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কর্মসূচিগুলোর বিবরণ:

১. ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মধুর ক্যান্টিন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও কার্জন হল ভবনের দেয়ালে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ লেখা পোস্টার দেখা যায়।

২. ২২ মার্চ ২০২৬ ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি অভিমুখে ১৮–২০ জনের একটি দল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে প্রায় ১০–১৫ মিনিটের একটি ঝটিকা মিছিল করে।

৩. ২ মে ২০২৬ ভোরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ব্যানারসহ ঝটিকা মিছিলের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ যৌথভাবে কয়েকজনকে আটক করে এবং ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করে।

৪. ১ জুন ২০২৬ বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে আকস্মিকভাবে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি করা হয়। সেখানে সংগঠনের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।

৫. ৫ জুন ২০২৬ (ভোর) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের মূল ফটকে একটি শোক ব্যানার টাঙানো হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

৬. ৫ জুন ২০২৬ (একই দিন) হাইকোর্ট মোড় ও দোয়েল চত্বর এলাকায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আরেকটি ‘জয় বাংলা’ স্লোগানভিত্তিক ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যার ভিডিও পরে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসন কি বলছে?

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর থেকে পোস্টারিং, ব্যানার টাঙানো ও ঝটিকা কর্মসূচির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এসব ঘটনার বিষয়ে তদন্ত, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল বলেন, বিষয়টি জটিল এবং এক-দুই মিনিটের স্বল্প সময়ের কর্মসূচির মাধ্যমেও সংগঠনগুলো তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্তের কাজ চলছে। অন্যদিকে সদ্য সাবেক প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবেশ ও জাতীয় পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে এমন কার্যক্রম বাড়তে পারে। তাঁর মতে, প্রশাসনের কঠোরতা থাকলে এসব কর্মসূচি আগের মতো সহজে করা সম্ভব হতো না।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/171543