বগুড়ায় যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রস্তাব, রেলস্টেশন রূপান্তর হবে দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে

বগুড়ায় যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রস্তাব, রেলস্টেশন রূপান্তর হবে দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া শহরের বুক চিরে যাওয়া রেলপথের কারণে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে একটি বহুমুখী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় শহরের বিদ্যমান রেললাইনটি অপসারণ করে দুটি বিকল্প উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রথমত, রাণীরহাট-গাবতলী নতুন রেলপথ স্থাপন; দ্বিতীয়ত, বর্তমান প্রকল্পের আওতায় রাণীহাট থেকে বগুড়ার সংযোগস্থল পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করে মেট্রো রেলের মতো ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা।

ট্রেনটি শহরের প্রথম বাইপাসের কাছে ওপরে উঠবে এবং দ্বিতীয় বাইপাসে গিয়ে নামবে। আগামী ৯ জুন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গৃহীত দুটি উদ্যোগের মধ্যে যেটি বেশি দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে, সরকার সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মো: শাহে আলম এমপি কর্তৃক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ডিও পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি শহরের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। এই রুটে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ লেভেলক্রসিং বা রেলগেট রয়েছে।

প্রতিদিন ট্রেন চলাচলের সময় এসব ক্রসিং দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল স্তব্ধ থাকে। এর ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্তমান বাস্তবতায় এই রেলপথকে বগুড়া শহরের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী রাণীহাট জংশনকে কেন্দ্র করে ‘রাণীহাট-গাবতলী’ নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এর ফলে নিচের বর্তমান রেললাইনটি অপসারণ করে সেখানে গাবতলী থেকে বগুড়া হয়ে কাহালু পর্যন্ত ফোর লেন (চার লেন) সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া, শহরের বর্তমান রেলওয়ে স্টেশনটিকে সংস্কার করে দূরপাল্লার পরিবহনগুলোর জন্য একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর যদি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হয় তবে স্টেশনটি মেট্রো রেলের মতো ওপরে উঠে যাবে, যেখান থেকে যাত্রীরা ওপরেই ওঠানামা করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রীর ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান জানান, শহরকে বাইপাস করে নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ এবং প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার পাঠানোর কথা তিনিও অবগত আছেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো: শাহে আলম এমপি জানান, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় বাস্তবায়নে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বগুড়া শহরের মানুষ যানজটের কবল থেকে মুক্ত হবে। বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে একটি বহুমুখী মহাপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান রেলপথটি অপসারণ করে রাণীরহাট –গাবতলী নতুন রেলপথ স্থাপন অথবা বর্তমান প্রকল্পের আওতায়রানীর হাট থেকে বগুড়া যে সংযোগটি রয়েছে সেই সংযোগ স্থল থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেস করে মেট্রো রেলের মত ট্রেনটি প্রথম বাইপাসের কাছে এলিভেটে উঠবে এবং দ্বিতীয় বাইপাসে নামবে।

ফলে নিচের রেল লাইন অপসারণ করে ফোর লেন রাস্তা করা হবে। বর্তমান যে রেল স্টেশন আছে তা মেট্রো রেলের মত উপরে উঠে যাবে। যাত্রীরা উপরে ট্রেন থেকে নামবে আবার উঠবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান আগামী ৯ জুন এই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। এটি হলে শহরের মধ্যে ৭টি রেলঘুমটি বন্ধহবে। গৃহীত দুটি উদ্যোগের মধ্যে যেটি দ্রুত এবং সাশ্রয়ী হবে সরকার সেটিই গ্রহণ করবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/171231