ময়মনসিংহে পূর্ববিরোধের জেরে বিএনপিকর্মী খুন: জামায়াত নেতার ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৪

ময়মনসিংহে পূর্ববিরোধের জেরে বিএনপিকর্মী খুন: জামায়াত নেতার ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৪

ময়মনসিংহে রাজনৈতিক পূর্ববিরোধের জের ধরে ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মী রানা মিয়া (৩৩) খুন হওয়ার ঘটনায় জড়িত জামায়াত নেতার ছেলেসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

এ ঘটনায় জড়িত ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম ওরফে মফিদুল মাস্টারসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, পূর্ববিরোধে কথা কাটাকাটির জের ধরে আসামিদের সংঘবদ্ধ হামলায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এতে রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা আছে কী-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনার তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য জানানো যাবে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম ওরফে মফিদুল মাস্টারের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (২০), স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন (৪০), হুমায়ুন কবীর আকাশ (২৩) এবং মনিরুল ইসলাম (২৪)।    

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) চরঈশ্বরদিয়া এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এরই একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় নিহত রানা মিয়া তার ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।  

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান চলমান আছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।  

নিহত রানার স্বজনরা জানান, গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করে ধানের শীষে ভোট দিয়েছিল নিহত রানা ও বাড়ির লোকজন। এরপর থেকে প্রতিবেশী জামায়াত নেতা মফিদুল মাস্টার ও তার লোকজনের সঙ্গে বিরোধ চলছিল।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, নিহত রানা বিএনপির কর্মী। বিগত সংসদ নির্বাচনে সে দলের পক্ষে কাজ করেছে। এতে ক্ষুব্ধ গুপ্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমাদের দলের নিবেদিত এই প্রাণকে খুন করেছে। ইতোমধ্যে খুনিদের কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা এখনও পলাতক। আশা করছি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করবে।  

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/171176