চামড়ার বাজারে ‘লাম্পিস্কিন’ তকমা! লোকসানের মুখে দিনাজপুরের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

চামড়ার বাজারে ‘লাম্পিস্কিন’ তকমা! লোকসানের মুখে দিনাজপুরের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি : দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ দিনাজপুরের রামনগর চামড়ার বাজারে এবার কোরবানির গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩শ’ টাকা দরে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ-সরকার নির্ধারিত দামের প্রতি তোয়াক্কা না করে ‘লাম্পিস্কিন’ রোগাক্রান্ত গরুর তকমা দিয়ে তারা ইচ্ছেমতো দামেই চামড়া কিনেছেন। এ জন্যই চরম লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।

দিনাজপুর পৌর এলাকার গোবড়াপাড়া থেকে আসা চামড়া বিক্রেতা মো: নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন চামড়া বেচা-কেনার সাথে জড়িত। কোনটা লাম্পিস্কিন রোগাক্রান্ত গরু, তা আমরা ভালোভাবেই চিনি। কিন্তু এখানকার চামড়ার আড়ৎদাররা সব চামড়াকেই লাম্পিস্কিন রোগাক্রান্ত গরুর আখ্যা দিয়ে ইচ্ছামতো দামেই চামড়া কিনছেন। ফলে আমরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছি। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করে চামড়া কেনার অভিযোগ করেন তিনি।

দিনাজপুর রামনগর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী বলেন, এবার বাজারে আসা গরুর চামড়ার ৫০ ভাগই লাম্পিস্কিন রোগাক্রান্ত। এসব চামড়া নিতে চায়না ট্যানারী মালিকরা। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা না বুঝেই এসব চামড়া কেনায় লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আব্দুর রহিম বলেন, চামড়া ক্রেতাদের এই কথাটি সঠিক নয়। কারণ দিনাজপুর জেলার ৬৮টি কোরবানির পশুর হাটে আমাদের ৩৮টি মেডিকেল টিম ছিলো। লাম্পিস্কিন রোগাক্রান্ত কোন গরু বাজারে বিক্রি হয়নি।

তাছাড়া যেহেতু চামড়ায় কোন দাগযুক্ত গরু কোরবানি দেয়া যাবে না, ইসলামের এমন বিধি-বিধানের কারণে যারা কোরবানির গরু কিনেছেন, তারা দেখে শুনেই দাগহীন বা রোগাক্রান্ত বিহীন গরু কিনেছেন। তাই চামড়া ক্রেতাদের অভিযোগ সঠিক নয়। উল্লেখ্য, সরকারি হিসেব অনুযায়ী দিনাজপুর জেলায় এবার ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি পশু কোরবানি করা হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/171053