বগুড়ার শেরপুরে মাছের আড়ত বন্ধ হওয়ায় বিপাকে আড়তদার ও মৎস্যচাষিরা
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে হঠাৎ করে মাছের আড়ত বন্ধ করে দেওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে কোটি টাকার মাছের ব্যবসা। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মালিকপক্ষের উদ্যোগে আড়তের বিদ্যুৎ, পানি ও বরফ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি মাছবাহী ট্রাক, পিকআপ ও ভটভটি প্রবেশের রাস্তা গাড়ি দিয়ে অবরোধ করা হলে মাছ বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন আড়তদার, পাইকার ও মৎস্যচাষিরা।
ভুক্তভোগী আড়তদারদের মধ্যে রয়েছেন আনোয়ার হোসেন বাবু, কামরুজ্জামান বাবু, জিয়াউর রহমান, টিপু, আবুল খায়ের, নিয়ত আলী, টুটুল, ধুলু, হাকিম, মিলন, সোহেল, আব্দুল রশিদ হাজি ও আরিফসহ আরও অনেকে। তাদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ৫০টি মাছবাহী গাড়িতে প্রায় ৬০০ মণ মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়।
কিন্তু গতকাল সোমবার রাত ১২টার দিকে রাস্তায় গাড়ি দিয়ে তাদের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাতে গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও মঙ্গলবার সকালে আড়তে মাছবাহী গাড়ি প্রবেশ করতে না পারায় পাইকাররা মাছ কিনতে পারেননি। ফলে অনেক মৎস্যচাষি বাধ্য হয়ে প্রতি গাড়িতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান দিয়ে মাছ বিক্রি করেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্র ছয় মাস আগে তিন বছরের চুক্তিতে তারা আড়তের ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মালিকপক্ষ একতরফাভাবে কাউকে না জানিয়ে আড়ত বন্ধ করে দেওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এদিকে মাছ বিক্রির আশায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মৎস্যচাষিরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই মাছ বিক্রি না করেই ফিরে গেছেন, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে কম দামে মাছ বিক্রি করেছেন। বরফ, পানি ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় বিপুল পরিমাণ মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে মাছ ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শেরপুর হাটবাজার মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল হান্নান ব্যাপারী বলেন, “মালিকপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নিজস্ব আড়তে ব্যবসা স্থানান্তরের কথা বলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎ, পানি ও বরফ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
অন্যদিকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি রঞ্জিলা পারভিন বলেন, “আড়তদার সমিতির নিজস্ব আরেকটি মাছের আড়ত রয়েছে। সমাজের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় আমরা আমাদের জমি লিজ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আড়তদারদের ডিডের (চুক্তির) টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা গ্রহণ না করায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির আড়ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/171049