ঈদের ছুটিতে সারিয়াকান্দির পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : প্রতি বছরের মত বগুড়া সারিয়াকান্দির বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় । সবচেয়ে বেশি পর্যটকদের সমাগম হয়েছে কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধে। পর্যটকদের চাপে পৌর এলাকার প্রধান সড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসন এবং পর্যটকদের সেবায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসন।
বগুড়া সারিয়াকান্দির বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ঈদ উপলক্ষ্যে পর্যটকদের চাপে মুখরিত হয়। এ ধারাবাহিকতায় গত ঈদের দিন বিকাল থেকে গত কয়েকদিনই পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড়। পর্যটকরা এখানে মোটরসাইকেল, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, ভটভটি, ট্রাক, বাসসহ নানা ধরণের যানবাহনে নেচে গেয়ে আসছেন। পর্যটকদের চাপে পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশের বাড়িগুলোও মিনি গ্যারেজে পরিণত হয়েছে।
এদিকে যানবাহনের চাপে উপজেলার পৌর এলাকার প্রধান সড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকরা এখানে নানা ধরনের মুখরোচক খাবার, নৌকায় যমুনা নদী ভ্রমণ সহ নানা ধরনের সৌন্দর্য একসাথে উপভোগ করেছেন। ঈদের দিন থেকেই পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছোটদের খেলনা, ফুচকা, চটপটি, বাদাম, আচার, আইসক্রিমসহ নানা ধরনের রকমারি দোকান বসেছে।
পর্যটকরা এখানে মাত্র ২০ টাকায় নৌকা এবং ৫০ টাকায় স্প্রিডবোটে যমুনা নদীতে ভ্রমণ করার সুযোগ পেয়েছেন। সাধারণত সারিয়াকান্দি উপজেলাকে যমুনা নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন সময়ে বেশকিছু স্পার এবং গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণ করেছে। এগুলো দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার জন্য পরবর্তীতে পর্যটকদের আকর্ষণ করেছে এবং পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এগুলো হলো, পৌর এলাকার কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ, সদর ইউনিয়নের প্রেম যমুনার ঘাট, হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া স্পার এবং কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মথুরাপাড়া স্পার। এগুলোর মধ্যে কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধে সবচেয়ে বেশি পর্যটকদের সমাগম হয়।
কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা থেকে বেড়াতে এসে সুমন মিয়া নামের একজন পর্যটক বলেন, ঈদের ছুটিতে স্ব পরিবারে ঘুরতে এসেছি। নৌকায় যমুনা নদীতে ভ্রমণ করে খুবই আনন্দিত হয়েছি। একদিকে স্পারের সৌন্দর্য এবং অপরদিকে যমুনা নদীর সৌন্দর্য, নানা ধরনের মুখরোচক খাবার সবকিছুই আমাকে ভালো লেগেছে। এখানকার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এবং নদীর ঠান্ডা বাতাসও আমাকে খুবই মনোমুগ্ধ করেছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকরা যেনো উৎসবমুখর পরিবেশে নিরাপদে সারিয়াকান্দি থেকে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারেন তার জন্য ঈদ পূর্ববর্তী প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে।
পৌর এলাকার যানজট নিরসনে অতিরিক্ত পৌর কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে, নৌকাগুলো যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে বা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে না পারে বা সন্ধ্যার পর পরই তাদের নৌকা চলাচল বন্ধ করেন সে বিষয়ে সবসময় মনিটরিং করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছিল। এ বছর পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে সারিয়াকান্দি থেকে ঈদ আনন্দ উপভোগ করে গেছেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/170779