ঠাকুরগাঁওয়ে কলেজছাত্রী অপহরণের অভিযোগে মামলা
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় একাদশ শ্রেণির (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) ছাত্রীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় উত্ত্যক্তকারী যুবক ও তার সহযোগীরা অপহরণ করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় গতকাল শনিবার রাতে অপহৃত ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত ছাত্রী ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। সে পরিবারের সাথে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। দীর্ঘদিন ধরে তাকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল রুহিয়া থানার চামেশ্বরী জায়গীর পাড়া এলাকার মো. শাহরিয়ার হাসান সিহাব (১৯)।
বিষয়টি মেয়ে তার পরিবারকে জানালে, তার বাবা সিহাবকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন এবং সিহাবের পরিবারকেও বিষয়টি অবহিত করেন। তবে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিহাব ও তার সহযোগীরা মেয়েটিকে অপহরণ করে।
মামলার বিবরণীতে মেয়ের বাবা বাদি হয়ে জানান, গত ১৯ মে রাতে অনন্যা এইচএসসি পরীক্ষার কিছু হ্যাণ্ডনোট ফটোকপি করার জন্য বাসার অদূরে মডেল স্কুল মোড়ের একটি দোকানে যায়। রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সিহাব, তার বাবা মো. হারুন-অর-রশিদ, মা মোছা. শাহিনা আক্তার এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানার বলরামপুর এলাকার রায়হানুর জামান শুভসহ (২১) অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অনন্যা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে অবশেষে ঘটনার ১১ দিন পর থানায় হাজির হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী বাবা।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, ভুক্তভোগী বাবার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপহৃত কলেজছাত্রীকে উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/170773