প্রেমিকের বাড়ি থেকে উদ্ধারের সময় তরুণীকে এসআইয়ের মারধর
মফস্বল ডেস্ক: কক্সবাজারে প্রেমিকের বাসা থেকে এক তরুণীকে উদ্ধারের সময় তাকে বেদড়ক পিটিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন চকরিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আরকানুল ইসলাম।লাঠি দিয়ে পেটানোর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এসআই আরকানুলকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
১৯ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বসতঘরে এসআই আরকান এক তরুণীকে অনবরত পিটিয়ে যাচ্ছেন এবং সেসময় ঘটনাস্থলে অন্য পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে ছাইরাখালী এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি ওই তরুণী পরিবারের অমতে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নুরুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
সেই তরুণীর পরিবার বিষয়টি জানিয়ে চকরিয়া থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে তরুণীকে উদ্ধারে ওসি মনির হোসেনের নির্দেশে এসআই আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ছাইরাখালী এলাকায় যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের সময় তরুণীকে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে তার প্রেমিক নুরুল আমিন বাধা দেন। একপর্যায়ে এসআই আরকানুল ইসলাম চড়াও হয়ে লাঠি নিয়ে তাদের দু’জনকে মারধর করেন।পুলিশের লাঠিচার্জে নুরুল আমিন ঘটনাস্থলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলে তিনি বর্তমানে চমেকে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।
মারধরের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাংচুর করে এবং পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ছাইরাখালীর বাসিন্দা আব্দুল মুমিন সংবাদমাধ্যমে বলেন, এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা, পুলিশের এমন আচরণ কাম্য নয়। অপরাধী কে শাস্তি দেওয়ার আইন আছে কিন্তু এভাবে মারধর করা তো উল্টো অপরাধ করার সমান। আমরা ওসি-এসআইয়ের শাস্তি চাই।
কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, অভিযানে গিয়ে পুলিশের এভাবে মারধরের কোন বিধান নেই। আর নারীকে আটক বা গ্রেপ্তারে অবশ্যই নারী পুলিশের উপস্থিতি থাকতে হয়ে।
ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আরকানুল ইসলাম ‘আমি ওসি স্যারের নির্দেশনায় অভিযানে গিয়েছি’ বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনার পর এসআই আরকানুল ইসলামকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চকরিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস বলেন, ভিকটিম উদ্ধারে গেলে এক পুলিশ সদস্য কতৃক মারধরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়াও একি ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/170706