বসুন্ধরা সিটিতে যুবকের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন: কারণ ‘মানসিক হতাশা’
রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সাততলা থেকে নিচে পড়ে নিহত যুবক মো. সৌরভের (২৭) মৃত্যুর কারণ জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
নিহত সৌরভ উত্তরার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইন (এলএলবি) বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজে আত্মহত্যার প্রমাণ:
পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন সৌরভের একা চলাফেরা এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে এটি একটি আত্মহত্যা। ফুটেজে দেখা গেছে, গত বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সৌরভ একাই বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি মার্কেটের বিভিন্ন তলা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং একপর্যায়ে সাততলায় উঠে যান। সেখান থেকেই তিনি শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরের খোলা অংশ (সেন্ট্রাল অ্যাট্রিয়াম) দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়েন।
ডিএমপির তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈনু মারমা জানান, সাততলা থেকে নিচে পড়ার পর সৌরভ গুরুতর আহত হন। শপিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, ওপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার কারণে সৌরভের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পুলিশ তার ফোন থেকে সিম কার্ডটি খুলে অন্য একটি সচল ফোনে প্রবেশ করায় এবং এর সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়।
অপমৃত্যু মামলা ও মরদেহ হস্তান্তর:
নিহত সৌরভের বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলায়। তার বাবার নাম রুস্তম আলী। ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবার ঢাকায় ছুটে আসে। সৌরভের বাবা বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
পরিবারের বক্তব্য:
ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে সৌরভের বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, সৌরভ দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পরিবার জানাতে পারেনি। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত করছে।
মানসিক হতাশা বা যেকোনো মানসিক সমস্যায় একা না থেকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন অথবা পরিবারের সাথে কথা বলুন। জীবন অত্যন্ত মূল্যবান।