ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ফলে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বুধবার (২৭ মে) রাতে ইরান কুয়েতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
 
অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করেছে।
 
ইরান দাবি করেছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা একটি উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে ওই ঘাঁটি কোন দেশে ছিল, তা তারা প্রকাশ করেনি।
 
এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও নৌযানে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব হামলাকে আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করা হয়।
 
পরে আরও হামলায় ইরানের কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয় এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে আঘাত হানার কথা জানায় মার্কিন বাহিনী।
 
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস এলাকায় হামলার পর তারা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
 
এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
 
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে একটি চুক্তির চেষ্টা করছেন, যা বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 
ইরান বলছে, তারা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত সম্পদ ফেরত চায়, যাতে তাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা যায়।
 
সব মিলিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/170574