ইসরাইলে আমেরিকার নজিরবিহীন সামরিক উপস্থিতি!

ইসরাইলে আমেরিকার নজিরবিহীন সামরিক উপস্থিতি!

মধ্যপ্রাচ্যে গত মাসে ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন ও বিশাল সামরিক উপস্থিতি বজায় রয়েছে। ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক বিমানবন্দরগুলোতে আমেরিকার অত্যাধুনিক এফ-২২ স্টিলথ ফাইটার জেট এবং ডজন ডজন আকাশেই জ্বালানি সরবরাহকারীবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যম একে দেশটির ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও নজিরবিহীন সামরিক সমাবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘কান’ দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নিয়মিত সেনাবহরের পাশাপাশি ইসরাইলের ভেতরে এই বিশেষ বিমান বহরের মোতায়েন অন্তত আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বজায় রাখতে গভীরভাবে আগ্রহী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরাইলের প্রথম হামলার পর থেকে শুরু করে গত সপ্তাহ পর্যন্ত কয়েক মাসের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে মার্কিন বিমানবাহিনীর এই অভূতপূর্ব উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।


প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইসরাইলের কৌশলগত ওভদা বিমান ঘাঁটিতে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী ও আধুনিক এফ-২২ ফাইটার জেটগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বেন গুরিওন এবং রামন বিমানবন্দরের মতো প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ডজন ডজন রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট বা জ্বালানি পরিবাহী বিমান অবস্থান করছে। বিভিন্ন ঘাঁটিতে ছড়িয়ে থাকা এই বিশাল বিমান বহরকে এই মুহূর্তে সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা পেন্টাগনের নেই বলে জানানো হয়েছে।

তবে আমেরিকার এই বিশাল সামরিক উপস্থিতির কারণে ইসরায়েলের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ এর আগে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, বেন গুরিওন এবং রামন বিমানবন্দরে মার্কিন সামরিক বিমানের অতিরিক্ত চাপের কারণে সাধারণ যাত্রীবাহী বিমান ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমানের টিকিটের দামের ওপর। ইসরায়েলের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান শ্মুয়েল জাকাই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দেশের প্রধান বিমানবন্দর বেন গুরিওনকে বর্তমানে একটি বেসামরিক বিমানবন্দরের চেয়ে সামরিক ঘাঁটি হিসেবেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

US deploys F-224
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন এই সামরিক তৎপরতা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে ইসরায়েলের আসন্ন গ্রীষ্মকালীন পর্যটন ও ভ্রমণ মৌসুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সাথে নিরাপত্তার অজুহাতে অনেক বিদেশি বিমান সংস্থা ইসরায়েলে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে পারে। গত মাসে ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হওয়ার পর এই অঞ্চলে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, ইসরায়েলের মাটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই স্থায়ী অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার অন্তরালে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যেকোনো পরিস্থিতির জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/170476