বিচারকরা স্বাধীন বলেই এনসিপি নেতার একদিনে জামিন: আইনমন্ত্রী

বিচারকরা স্বাধীন বলেই এনসিপি নেতার একদিনে জামিন: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচারকরা সম্পূর্ণ স্বাধীন। এই কারণে তারা (এনপিপি নেতা তারেক রেজা) গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যা হয়েছে, সেখানে পুলিশের দায়িত্বশীলতার কোনো ঘাটতি ছিল না। বিচারকরাও স্বাধীনভাবে এ বিষয়ে ফাংশন করেছেন। কিন্তু এগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছেন তারা।

আইন মন্ত্রণালয় থেকে আদালত নিয়ন্ত্রণ করা হয়– এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এমন বক্তব্যের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উনি (হাসনাত আবদুল্লাহ) যা বলেছেন, তা আদালত অবমাননার শামিল। বিচারক বিচারকার্যে সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলেই তাদের (এনসিপি) নেতারা মামলায় গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন।’

বাংলাদেশের বিচারকরা অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মামলা জট রয়েছে। কারণ, আমাদের বিচারক সংকট আছে। একইসঙ্গে আইনজীবীর সংখ্যাও কম। ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার মতো আইনজীবী বেশি না থাকায় মামলা জট কমানো যাচ্ছে না।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগ যতটা স্বাধীন, এত স্বাধীনতা অন্য কোনো জায়গায় খুব কম উপভোগ করে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা সাংবিধানিকভাবে এতটাই স্বাধীন যেখানে তাদের ট্রান্সফার, পোস্টিং, ডিসিপ্লিন কোনো কিছু সরকারের হাতে নাই।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই স্বাধীনতার অন্য রূপও আমরা দেখেছি। সেখানে আমরা দেখেছি– শপথবদ্ধ রাজনীতিবিমুখ হতে। সেই স্বাধীনতা আমাদের দেশে মানুষের নাগরিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর আমার দেশে সাবলীল জুডিশিয়ারি জজ সাহেবরা যে যেটা নিজেদের বিদ্যা বুদ্ধি দিয়ে, নিজেদের প্রজ্ঞা দিয়ে, মেধা দিয়ে যে রায় দেন, সেখানে সরকারের কোনো কিছু করার থাকে না।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারই সবচেয়ে বেশি মামলায় পক্ষ এবং সরকারই সবচেয়ে বেশি হেরে যায়। এটা আপনাদের মাথায় রাখতে হবে। যদি সরকার এত মামলায় না হারতো, তাহলে বলতে পারতেন যে সরকার তার সব মামলায় জিতে যাচ্ছে। স্টাডি করে দেখেন, সরকারের বিরুদ্ধে রায় বেশি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিচারকার্য দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার, তা করা হবে। তবে সারা দেশে বিচারক এবং আইনজীবী সংকটের কারণে অনেক সময় বিচারকার্য দীর্ঘ হয়ে থাকে।’

পরিদর্শন ছাড়াও মন্ত্রী সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাসিক সমন্বয় সভায় অংশ নেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/170386