জয়পুরহাটে বকেয়া আর ক্রমাগত লোকসান, এবার ঈদে চামড়া কেনার প্রস্তুতি নেই ব্যবসায়ীদের

জয়পুরহাটে বকেয়া আর ক্রমাগত লোকসান, এবার ঈদে চামড়া কেনার প্রস্তুতি নেই ব্যবসায়ীদের

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: ট্যানারি মালিকদের কাছে মোটা অঙ্কের বকেয়াসহ ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় ঈদে এবার চামড়া কেনার প্রস্তুতি নেই জয়পুরহাটের ব্যবসায়ীদের। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বার বার লোকসানে চামড়া কেনার আগ্রহ হারিয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদের আগে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে সরকার। কিন্তু বাজার থেকে কাঁচা চামড়া কেনার পর লবণ দিয়ে প্রস্তুত করে বিক্রি করতে গেলে সরকারের বেধে দেওয়া সেই দামে আর চামড়া কেনে না ট্যানারি মালিকরা। আবার যে দামে কেনে সেটাও নগদ পাওয়া যায় না। এভাবে বছরের পর বছর বকেয়া থাকায় চামড়া ব্যবসা নিয়ে মহাবিপদে আছেন ব্যবসায়ীরা।

বকেয়া টাকা পাওয়ার আশায় অনেক ব্যবসায়ী ধার-দেনা করে কোন রকমে ধরে রাখলেও অনেকে এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। সরেজমিনে শহরের সিও কলোনি, আমতলী এবং পাঁচবিবির রেলস্টেশন ও বড় মসজিদ এলাকার বিভিন্ন চামড়া গুদামে গিয়ে দেখা গেছে, সবগুলো গুদামই প্রায় ফাঁকা। মাঝে মধ্যে দু-একটা গুদামে লবণের কিছু বস্তা চোখে পড়লেও ঈদের আগে তাদের চামড়া কেনার কোন প্রস্তুতিই দেখা যায়নি।

আবার অনেক গুদামে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। ঈদে চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয় জয়পুরহাট পৌরসভার সিও কলোনির গোলজার হোসেনের সাথে। তিনি বলেন,আমরা তো প্রতি বছর ধার-দেনা করে চামড়া কিনি। কিন্তু বিক্রি করতে গেলে সরকারি রেটের অর্ধেক দামও পাওয়া যায় না।

যার জন্য আর লোকসান দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। অনেক ব্যবসায়ী নি:স্ব হয়ে চামড়া ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। শহরের আমতলীর চামড়া ব্যবসায়ী বাবু হোসেন বলেন,‘রোজার ঈদের পর চামড়া কিনে আসল দামেও বেচতে পারিনি। এ জন্য এবার আর চামড়া কেনার কোন আগ্রহ নেই।

শহরের নতুনহাট এলাকার পুরাতন চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন,আমরা প্রতিবারই চামড়া কিনি। এবারও কিছুটা প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা খুব সুযোগ সন্ধানী। তারা বাঁকী ছাড়া ব্যবসা করে না। এক সপ্তাহের সময় নিয়ে তারা ছয় মাসেও তারা টাকা শোধ করে না। বার বার বাঁকী দিলে আমরা টাকা কোথায় পাব।
জেলার চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি শহরের সিও কলোনির বড় চামড়া ব্যবসায়ী শামিম আহম্মেদ বলেন, ‘ক্রমাগত লোকসানের কারণে এবার ঈদে জেলার ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনার প্রস্তুতি নেই বললেই চলে। গত বছর সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও অর্ধেক দামেও কেউ চামড়া বিক্রি করতে পারেনি। আবার গত বছরের তুলনায় এবার লবণের দামও বেড়েছে বস্তাপ্রতি দেড়’শ টাকা। শ্রমিকের দামও বেড়েছে। ব্যাংক থেকে সহযোগিতাও মেলেনা। এ জন্য চামড়া কেনার কোন আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের।

বকেয়া সহ নানা প্রতিকূলতার পরও প্রতি ঈদেই প্রায় ১০০ কোটি টাকার চামড়া সরবরাহ করেন জয়পুরহাটের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বকেয়ার পাশাপাশি ক্রমাগত লোকসানের শঙ্কায় এবারের ঈদে চামড়া কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া ব্যবসাকে গতিশীল করতে সরকারি কঠোর নজরদারীর আহবান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/170341