বগুড়ার গাবতলীতে জমি বিক্রির টাকা লুট করার জন্যই গৃহবধূ রিতাকে হত্যা করা হয় : স্বীকারোক্তি, গ্রেফতার ২

বগুড়ার গাবতলীতে জমি বিক্রির টাকা লুট করার জন্যই গৃহবধূ রিতাকে হত্যা করা হয় : স্বীকারোক্তি, গ্রেফতার ২

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা গ্রামে গৃহবধূ রিতা মজুমদার হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। এহত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জমি বিক্রির টাকা লুট করতেই ওই গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে গ্রেফতারকৃত এই দুইজন স্বীকার করেছেন।

বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আজ সোমবার (২৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম। গ্রেফতারকৃতরা হলো, গাবতলীর মমিনহাটা পূর্বপাড়ার ফরিদ প্রামানিকের ছেলে শাওন মিয়া (২০) এবং একই এলাকার মোকলেছের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তারা দুজনেই পেশায় দিনমজুর।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২০ মে রাতে রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বিধান মজুমদার রাতের খাবার শেষে আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। ওইদিন রাত সোয়া ১২টার দিকে শব্দ শুনে বিধান মজুমদার জেগে ওঠেন। এর কয়েক মিনিট পর স্ত্রীর কক্ষ থেকে চিৎকার শুনে তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন, দরজা খোলা এবং রিতা মজুমদার রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। পরে স্থানীয় লোকজনকে ডাকাডাকি করলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে গাবতলী থানার পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে শনিবার রাতে শাওন মিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শাওন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং আনোয়ার হোসেনের নাম প্রকাশ করে। পরে পুলিশ আনোয়ারকেও গ্রেফতার করে।

আনোয়ার ও শাওন একসঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতো। প্রায় ১০ দিন আগে আনোয়ার জানতে পারে যে, রিতা মজুমদারের বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা রয়েছে। এরপর দুজন মিলে টাকা লুটের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আনোয়ার স্থানীয় বাজার থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র কিনে আনে। ঘটনার রাতে রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বাড়ির বাইরে ধান ও খড় তোলার কাজে গেলে দুই আসামি বাড়িতে ঢুকে গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে থাকে।

পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত সোয়া ১২টার দিকে শাওন দরজায় ধাক্কা দেয়। শব্দ পেয়ে রিতা মজুমদার টর্চলাইট নিয়ে বাইরে বের হলে তিনি আনোয়ারকে চিনে ফেলেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে আনোয়ার তার হাতে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্র  দিয়ে রিতার গলায় কোপ দেয়। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবহৃত অস্ত্র দুটি বয়ারবাড়ী বিলের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। জানতে পেরে রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে। এর পাশাপাশি আসামিদের কাছ থেকে হত্যার সময় পরিহিত পোশাক, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। এবং আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এব্যাপারে গাবতলী থানার ওসি মো: রাকিব হোসেন জানান, গতকাল বিকেলে এই দুই আসামিকে গাবতলী আমলি আদালতে হাজির করা হলে এ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তি দেয় শাওন। সে বলেছে জমি বিক্রির টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই সে আর আনোয়ার মিলে ওই গৃহবধূকে হত্যা করেছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/170302