নীলফামারীর ডোমার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাসির বদলে দেওয়া হচ্ছে ব্রয়লার মুরগির মাংস

নীলফামারীর ডোমার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাসির বদলে দেওয়া হচ্ছে ব্রয়লার মুরগির মাংস

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত ৫০ জন রোগীর মাঝে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রধান টেড্রার্সের বিরুদ্ধে। প্রধান ট্রেডার্সের নামে লাইসেন্স থাকলেও চুক্তিতে খাদ্য সরবরাহ করেন শাহিনুর রহমান শাহিন নামে একজন খাদ্য সরবরাহকারী।

অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও উন্নতমানের পাউরুটির পরিবর্তে নিম্নমানের পাউরুটি, বড় কলার পরিবর্তে ছোট কলা ও দরপত্র অনুযায়ী তিনদিন খাসির মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও এর পরিবর্তন করে একদিন (বুধবার) খাসির মাংস রোগীদের খাওয়ানো হচ্ছে।

মেডিকেলে টাঙানো দৈনিক খাদ্য তালিকায় শনি, সোম ও বুধবার খাসির মাংস লেখা থাকলেও বারগুলোর উপরে নতুন করে ব্রয়লারের মাংস লেখা স্টিকার বসানো হয়েছে। বর্তমানে সপ্তাহে একদিন খাসির মাংস, চারদিন ব্রয়লারের মাংস, দুইদিন মাছ রোগীদের দেয়া হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রধান ট্রের্ডাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন রিসিভি না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রান্নাঘরে বাবুর্চি আতোয়ার আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, মেডিকেলে খাদ্য সরবরাহ করেন শাহিনুর রহমান।

তথ্য সংগ্রহের একপর্যায়ে খাদ্য সরবরাহকারী শাহিনুর রহমান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান বারীর সাথে কথা বলে খাদ্য তালিকার পথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তনের কোন মিটিং বা রেজুলেশন আছে কিনা জানতে চাইলে ডা. রায়হান বারী ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির একটি কাগজ দেখান।

এদিকে, প্রায় দুই মাস থেকে খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করা হলেও কিছুই জানেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান বারী। তিনি বলেন, তালিকা অনুযায়ী খাদ্য বুঝিয়ে নেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে দেওয়া আছে। পরিবর্তনের বিষয়ে কমিটি ভালো বলতে পারবে।

মনিটরিং টিমের সদস্য সচিব ও মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান হাবীব সোহান বলেন, খাসির মাংস পরিমাণে কম হওয়ায় মাংসের পিস ছোট হয়। এজন্য দু’দিন খাসির মাংস কমিয়ে ব্রয়লারের মাংস করা হয়েছে। বর্তমানে চারদিন ব্রয়লার মুরগির মাংস, দুইদিন মাছ ও একদিন খাসির মাংস দেওয়া হয়। এটি পরীক্ষামূলক করা হয়েছে।

নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তালিকায় খাসির মাংসের পরিবর্তে ব্রয়লার মুরগির মাংস রোগীদের খাওয়ানো কোনভাবে উচিত নয়। এরকম হয়ে থাকলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/170074