তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রয় স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিত্রস্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপভূখণ্ড তাইওয়ানের কাছে প্রতিশ্রুত ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রের চালান বিক্রয় স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গতকাল শুক্রবার সিনেটের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন হাং কাও। সেখানে এমপিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যে কোনো সময় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ফের শুরু হয়ে যেতে পারে। যদি সত্যিই এমন পরিস্থিতি আসে, তাহলে যেন মার্কিন বাহিনীর কাছে অস্ত্রের কোনো ঘাটতি না হয়— সেজন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সিনেট শুনানিতে হাং কাও বলেন, “বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধবিরতি চলছে বটে, তবে যে কোনো সময় এই বিরতি ভেঙে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের অপারেশন এপিক ফিউরি পুনরায় শুরু করতে হবে। যদি সত্যিই আমাদের তা শুরু করতে হয়— তাহলে অস্ত্রের সম্ভাব্য ঘাটতি ঠেকাতে আগাম সতর্কতা হিসেবে তাইওয়ানের অস্ত্রের চালান স্থগিত করা হয়েছে।”
“আমরা শুধু নিশ্চিত করছি যে আমাদের কাছে সবকিছু আছে; তারপর প্রশাসন যখন প্রয়োজন মনে করবে তখন বৈদেশিক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি পুনরায় শুরু হবে।”অস্ত্র বিক্রয় স্থগিতের ব্যাপারে তাইওয়ানের সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়েছে কি-না— এমন প্রশ্নের উত্তরে হাং কাও বলেন, “আমি নিজে এখনও তাইওয়ানের সরকারের সঙ্গে কথা বলিনি। প্রশাসনের অন্য কোনো কর্মকর্তা (তাইওয়ানের সঙ্গে) কথা বলেছেন কি-না তা জানা নেই।”
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এর একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এ ব্যাপারে কোনো তথ্য তাইওয়ানকে জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হিসেবে দাবি করলেও তাইওয়ান এ দাবির সঙ্গে একদমই একমত নয়। দ্বীপ-ভূখণ্ড তাইওয়ান বরাবর নিজেদের স্বাধীন ও সার্বভৌম হিসেবে দাবি করে আসছে। নিজস্ব সরকার, পতাকা, মুদ্রা সবই আছে তাইওয়ানের। চীন-তাইওয়ানের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর।বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয়নি, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও দেয়নি। তবে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রয়-সংক্রান্ত একটি আইন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেই আইনের আওতাতেই স্বায়ত্বশাসিত এই দ্বীপ ভূখণ্ডের কাছে ৭ দশকেরও বেশি সময় ধরে অস্ত্র বিক্রি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
তাইওয়ানে যে প্রতিশ্রুত অস্ত্রের চালানটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, সেটির আর্থিক মূল্য ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এই চালানের মধ্যে রয়েছে লকহিড মার্টিনের প্যাক-৩ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র, সার্ফেস টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম, রকেট লাঞ্চারসহ বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য আগেই এই অস্ত্রের চালান স্থগিতের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। চীনে ৩ দিনের সফর থেকে ফিরে এসে ১৫ মে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তাইওয়ানের কাছে প্রতিশ্রুত অস্ত্রের চালান বিক্রয়ের ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র : বিবিসি
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169993