আদালতে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

আদালতে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়েছে। আজ শনিবার তাকে আদালতে তোলা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় ওই দিন রাতেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে ২৯ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বেআইনি রায় প্রদান ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার মামলায় তাকে ভার্চুয়ালি গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

একই বছরের ৩০ জুলাই বিচারক হিসেবে দুর্নীতি ও বিদ্বেষমূলকভাবে বেআইনি রায় দেওয়াসহ জাল রায় তৈরির অভিযোগে শাহবাগ থানার মামলায় এবং ১০ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে এই পাঁচ মামলায় গত ২৮ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন।

তবে জামিন পাওয়ার পরও গত ৩০ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানার শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা ও আদাবর থানা এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই দুই মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট রুল দিয়ে খায়রুল হককে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন স্থগিত চেয়ে পৃথক আবেদন করলে গত ২০ মে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশই বহাল রাখেন।

এদিকে, গত ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার খোবাইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম খলিল। ওই দিন আদালত আজ ২৩ মে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব। সকাল ১১টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে তারা যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হন।

এ সময় শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ, র‌্যাব এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চলায়। এতে গুরুতর আহত খোবাইবকে স্থানীয়রা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169967