বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ছুরিকাঘাতে নিহত শিক্ষার্থীর দাফন সম্পন্ন

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ছুরিকাঘাতে নিহত শিক্ষার্থীর দাফন সম্পন্ন

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ছুরিকাঘাতে নিহত শিক্ষার্থী  মুস্তাকিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাকে তার নিজ বাসভবনের পাশে দাফন করা হয়েছে। এর আগে আজ শুক্রবার (২২ মে) বাদ আছর তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দাফনকার্যে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে সহযোগিতা করায় একজন যুবককে আর্থিক এবং ঢেউটিন সহায়তা প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আসামির বাড়ি ভাঙচুর করেছে। এ বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ, আসামি ধরার প্রক্রিয়া চলমান, মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী এরফানুর রহমান রেন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাত হোসেন পল্টন প্রমুখ। মুস্তাকিমকে দিনে দুপুরে ছুরিকাঘাতে খুন করার ঘটনায় আজ শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী এবং শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুতুবপুর ইউনিয়নের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে রাস্তার পাশে পথসভা এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচি শেষে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা অভিযুক্ত আসামির বাড়িতে হামলা ভাঙচুর চালিয়েছেন। নিহতের দাফন কার্যে উপস্থিত হয়ে কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি নিহতের পরিবারকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন এবং মুস্তাকিমকে নিহতের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহসিকতার পুরস্কার হিসেবে আরিফুর নামের একজন যুবককে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৪ বান্ডিল টিন সহায়তা প্রদান করেন।

জানাজায় উপস্থিত হয়ে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, মুস্তাকিমের লাশ ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো। তার খুনিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি খুব শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

জানাজায় উপস্থিত জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, একজন নবম শ্রেণির এতিম শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে মেরে ফেলার ঘটনা খুবই অনাকাক্সিক্ষত এবং বেদনাদায়ক। অপরাধী যেই হোক, যে দলেরই হোক তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। মুস্তাকিমের পরিবার যেনো দ্রুত  সঠিক বিচার পায়, সে বিষয়ে সকল ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ উপজেলা থেকে সকল ধরনের সন্ত্রাস নির্মূল করা হবে। এ বিষয়ে আমি এলাকাবাসীর একান্ত সহযোগিতা কামনা করছি।

উল্লেখ্য যে, গত বুধবার একই উপজেলার নিজামউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র শাহাদত হোসেনের সাথে ফুটবল খেলা নিয়ে মুস্তাকিমের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে নওখিলা পি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মুস্তাকিমকে একা পেয়ে শাহাদত হোসেন এবং তার বাবা শাহা আলী মুস্তাকিমের উপর হামলা চালায়।

এক পর্যায়ে শাহাদত হোসেন মুস্তাকিমকে ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলে মুস্তাকিম গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা মুস্তাকিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169939