রাজশাহীর পশুহাটে ভারতীয় গরু, শঙ্কায় খামারিরা

রাজশাহীর পশুহাটে ভারতীয় গরু, শঙ্কায় খামারিরা

রাজশাহী প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিটি হাট। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা খামারি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভিড়ে হাটটি মুখর হয়ে উঠেছে। তবে দেশীয় গবাদিপশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও হাটে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি বেশ নজর কাড়ছে। এতেই স্থানীয় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ী ও খামারিদের অভিযোগ, গত এক মাস রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করছে। এসব গরু বৈধ ও অবৈধ উভয় পথেই বিভিন্ন হাটে ছড়িয়ে পড়ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই হাটে ভারতীয় গরুর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী সিটি হাটে গরু নিয়ে আসা খামারি আমজাদ হোসেন বলেন, হাটে দিন দিন ভারতীয় গরুর সংখ্যা বাড়ছে। এতে দেশীয় গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। আমরা লোকসানের আশঙ্কায় আছি। স্থানীয় খামারিদের দাবি, গত কয়েক বছরে তারা অনেক কষ্টে গরু মোটাতাজাকরণ ও খামার গড়ে তুলেছেন। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ অব্যাহত থাকলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, রাজশাহীতে এবছর কোরবানির পশুর ঘাটতি নেই। বরং জেলার চাহিদা পূরণ করেও বিপুল সংখ্যক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। অন্যদিকে জেলার মোট চাহিদা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু। সে হিসেবে প্রায় ৯২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতোয়ার রহমান বলেন, একসময় ভারতীয় গরু আসার কারণে স্থানীয় খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তেন। এবার সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করতে না পারে।  এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আমাদের কথা হয়েছে।

তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হাটে যাতে কেউ বিদেশি গরু নিয়ে আসতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। কারও চোখে যদি দু-একটি গরু ভারতীয় বলে মনে হয়, তাহলে কেউ হয়তো ভিন্ন উপায়ে সেগুলো নিয়ে আসতে পারে। তবে এ ধরণের কোনো গরুর অনুমোদন আমাদের নেই বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। ওপর মহলের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169931