বগুড়ায় জালটাকা কারবারি চক্রকে ধরতে হাটে হাটে গোয়েন্দা নজরদারি
স্টাফ রিপোর্টার: কোরবানি ঈদের সামনে জাল টাকার কারবারি চক্র তেমন সক্রিয় হয়ে না উঠলেও গোয়েন্দারা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। চক্রের সদস্যদের ধরতে মাঠে নামানো হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। হাটে হাটে নজরদারি করছে জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি ও ডিএসবির সদস্যরা।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, প্রতি বছর কোরবানির পশুরহাটকে সামনে রেখে জালটাকা কারবারি চক্র সক্রিয় থাকে। জালটাকা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় তারা। তাই এই চক্র যেন হাট বাজারে জালনোট ছড়িয়ে দিতে না পারে সেজন্য সজাগ রয়েছে পুলিশ। পশুর হাটে হাটে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
মাঠে নামানো হয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ বগুড়া (এসবি)’র সদস্যদের। তবে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে জালটাকা কারবারি চক্রের তৎপরতা নেই। তারপরও জালটাকা কারবারে জড়িতদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কারবারি চক্র সক্রিয় হলে বা তাদের অবস্থান জানা গেলে হাতে নাতে গ্রেফতার করা হবে তাদেরকে।
সেইসাথে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বুথে বুথে বসানো হয়েছে জালটাকা শনাক্ত করণ মেশিন। টাকা আসল না জাল সেবিষয়ে সন্দেহ হলে ক্রেতা বা বিক্রেতারা তা জানতে পারবেন এই মেশিনের মাধ্যমে।এদিকে বগুড়ায় এবার কোরবানির পশুরহাটকে কেন্দ্র করে জালটাকা কারবারি চক্রের তৎপরতা সম্পর্কে তেমন তথ্য না পাওয়া না গেলেও কোরবানির হাটের দুমাস আগেও জালটাকার কারবারি চক্র সক্রিয় ছিল বগুড়ায়। জালটাকাসহ গ্রেফতারও করা হয়েছে তাদেরকে। ইতিপূর্বে গত ৭ মার্চ বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থেকে জাল টাকার কারবারি চক্রের সদস্য রাসেলকে ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার করা হয়।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র একটি টিম গত ৭ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলার পশ্চিম আলোহালিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকার জালনোটসহ রাসেল মন্ডল (৩০) নামে এক কারবারিকে গ্রেফতার করে।
পরে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে জালনোট সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দেয় রাসেল। সে বলে সে জাল টাকার বাহক মাত্র। জালনোট প্রস্তুতকারি চক্রের গড়ফাদাররা থাকে পর্দার আড়ালে। তবে তাকে তারা চেনে না। গ্রেফতার রাসেল মন্ডল দুপচাঁচিয়া উপজেলার বনতেতুলিয়ার গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদ আসলেই বাজারে জালনোট আতংক বিরাজ করে। প্রায়ই জালনোট নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। ১০০,২০০,৫০০ ও এক হাজার টাকার জালনোটও পাওয়া যায়। কোনটা আসল আর কোনটা জালনোট তা বুঝে ওঠা যায়না। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হন ব্যবসায়ীরা।
জালনোট সম্পর্কে ধারণা রয়েছে এমন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অবিকল আসল নোটের মত জালনোট তৈরি করে বাজারে ছাড়া হয়ে থাকে। এতে প্রতারিত হন সাধারণ মানুষ। তারা বলেন, আসল টাকা নাড়াচাড়া করলে খসখসে ভাব অনুভূত হবে। অন্যদিকে জাল টাকা মসৃণ হবে। এ ছাড়া জাল টাকার ক্রমিক নম্বর একই হয়ে থাকে। অনেক জাল টাকায় সিকিউরিটি সুতার মত দাগ থাকলেও ভিতরে সুতা থাকেনা। জালটাকা পানিতে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে নস্ট হয়ে যায়। কিন্তু আসল টাকা পানিতে রাখলে খুব তারাতারি নষ্ট হয়না।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি’র ইনচার্জ (ওসি) মো.ইকবাল বাহার বলেন, জালটাকা রোধে পশুর হাটগুলোতে নজরদারি করা হচ্ছে। জালনোট প্রস্ততকারি চক্র হাটগুলোতে ছড়িয়ে দিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের প্রতারণা করতে না পারে সেব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্ত হাটগুলোতে জালনোটের কারবার হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা নজরদারির কারনে এখনও এই চক্র হাটগুলোতে জালনোট ছড়িয়ে দেযার সাহস দেখায়নি। তবে গত বছর ২০২৫ সালে জালনোট কারবারি চক্র সক্রিয় ছিল। গত বছর এই চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার ও জালনোট উদ্ধার করে তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে দেয়া হয়েছিল। এবার যদি তারা তৎপরতা দেখানোর চেষ্টা করে হাতেনাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। এজন্যই জালনোট কারবারিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169919