র্যাবকে সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যেতে চাই: ডিজি
র্যাবকে মর্যাদা সম্পন্ন এবং সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ।
র্যাব সদরদপ্তরে সোমবার (১৮ মে) দুপুরে বাহিনীটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই মূল মন্ত্রকে বুকে ধারণ করে আগামীতে আরও উৎসাহ এবং উদ্দীপনা নিয়ে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
র্যাবে সাতটি বাহিনী থেকে আগত দক্ষ অফিসার এবং সদস্যদের নিয়ে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, এ বাহিনীতে সদস্য প্রেরণকারী সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর প্রতি। যাদের অংশগ্রহণ ছাড়া এই এলিট ফোর্সের মান ধরে রাখা সম্ভব নয়।
সব বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ মানের সদস্য প্রেরণ করে র্যাবকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে, আশা র্যাব সমহাপরিচালকের।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসার বাহিনীর চৌকশ সদস্যদের নিয়ে দ্যা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯-এর আলোকে গঠিত হয় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে র্যাব দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার, মাদক বিরোধী অভিযানে সফলতা অর্জনের পাশাপাশি ক্লুলেস মার্ডার, চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি, ছিনতাই, মানব পাচার এবং অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে ধারাবাহিক এবং কার্যকর অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
তার মতে, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং অপরাধ প্রতিরোধে আইনানুগ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে র্যাব জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জন করেছে। আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে যে কোনো ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের রয়েছে পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা ও প্রস্তুতি।
মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দুর্যোগ, দুর্বিপাক কিংবা সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষকে র্যাব সহায়তা দিয়ে আসছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক অত্যন্ত পেশাদার এ সংস্থাটিকে বিভিন্ন সময় অপব্যবহার করা হয়েছে। এতে অপব্যবহারকারীরা যেমন জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে, তেমনি বাহিনীটিকে করেছে বিতর্কিত। যা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক।
তার মতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদে জননিরাপত্তার জন্য বেড়ে ওঠা একটি বাহিনীকে এভাবে কুলুষিত করা যায় না। এতে র্যাবের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে। অপেশাদার আচরণের কারণে অনেক অফিসারের কার্যক্রম আজ বিতর্কিত হয়েছে। যা প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারীর জন্য মোটেই কাম্য নয়। আমরা চাই, সঠিক পথে পরিচালিত হয়ে, দায়িত্বপালন শেষে মর্যাদাপূর্ণ নিরাপদ জীবন।
আহসান হাবীব পলাশ বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলিট ফোর্স হিসেবে আমরা যেন মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারি, এ প্রত্যাশা শুধু আমরা নয়, এই প্রত্যাশা বর্তমানে র্যাবে কর্মরত প্রতিটি সদস্যের মনের কথা।
তিনি বলেন, বাস্তবতার প্রেক্ষিতে পুলিশ বাহিনীকে অনেক ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। যেটা র্যাবের ক্ষেত্রে হয় না। সে কারণে সব সময় পুলিশের পক্ষে দ্রুততম সময়ে দুর্ধর্ষ অপরাধী গ্রেপ্তারে প্রত্যাশিত মনোনিবেশ করা সম্ভব হয় না।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169491