বগুড়ায় লিচু কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা
স্টাফ রিপোর্টার : প্রাকৃতিক রসগোল্লা খ্যাত লিচু কিনে দুইভাবে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা সাধারণ। শ’ হিসেবে কিনেও যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, তেমনি ওজন (কেজি) করে কিনেও প্রতারিত হচ্ছেন। এক কথায় প্রতারক বিক্রেতাদের ফাঁদে বগুড়া লিচু ক্রেতারা।
বেশকিছু দিন আগেই বগুড়ার বাজারের লিচু উঠেছে। বেশি দামের আশায় অপরিপক্ক লিচু বিক্রি করে দিয়েছেন বাগানীরা। সেই লিচু সৌখিন ক্রেতারা কিনলেও খেতে পারেননি। অপরিপক্ক ও টক স্বাদের ওই লিচু কিনে ঠকেছেন ক্রেতারা। বর্তমানে বাজারে কিছু পরিপক্ক লিচু এলেও অন্যভাবে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। শ’ হিসেবে কিনে তারা কেজি দরে বিক্রি করছেন। সাধারণ সাইজের একশ’ লিচু কমপক্ষে ৩ কেজি ওজন হয়। একশ’ লিচুর দাম ৪শ’ টাকা হলেও ওই লিচু কেটে ২শ’ টাকা কেজি দলে তিন কেজি ৬শ টাকায় বিক্রি করছেন এতে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। ক্রেতারা লিচু শ’ হিসেবে বিক্রি করার জন্য বিক্রেতাদের বাধ্য করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
বগুড়া শহরের ফুলতলা এলাকার ওয়াহিদুর রহমান জানান, তিনি ওজন করে ৫শ’ গ্রাম লিচু কিনে দেখতে পান লিচুর সংখ্যা ১৭টি। এর দাম নিলো ১৮০ টাকা। অথচ ৪শ’ টাকা শ’ হলে ওই টাকা দিয়ে ৪০টি লিচু পাওয়া যেত। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা শ’ হিসেবে কিনে ওজন করে বিক্রি করছেন যা প্রতারণার সামিল।
শহরের ফুলবাড়ি এলাকার রুমি বেগম জানান, শহরের চাঁদনী বাজরে তিনি লিচু কিনতে গিয়ে দেখতে পান শ’ হিসেবে বিক্রি করছেন না কেউ। সবাই ওজন করে বিক্রি করছেন। তিনি শ’ হিসেবে কিনতে চাইলেও তারা বিক্রি করেননি।
অন্যদিকে শহরের সপ্তপদী মার্কেটের দক্ষিণে বিক্রেতারা ওজন করে আবার গুণেও বিক্রি করছেন।
রহমান নগরের এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, তিনি একশ’ লিচু কিনে বাড়িতে গিয়ে দেখেন ৮৩টি লিচু। তিনি বলেন, প্রতিশ’ সাড়ে ৪শ’ টাকা দরে কিনে তিনি ৭০ টাকার বেশি প্রতিারিত হয়েছেন। পরে অন্য সময় এসে দোকানীকে বললে, তিনি বলেন খুলে পড়ে গেছে বলে আরও ৫টি দিতে চাইলেও তিনি নেননি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়ার সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, বিক্রেতারা যে হিসেবে কিনবে সেই হিসেবেই বিক্রি করতে হবে। শ’ হিসেবে কিনে ওজন করে বিক্রি করা যাবে না।