বগুড়ার ধুনট-সারিয়াকান্দি সড়কে মানাস নদীর সেতুটি এখন মরণফাঁদ

বগুড়ার ধুনট-সারিয়াকান্দি সড়কে মানাস নদীর সেতুটি এখন মরণফাঁদ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: যেকোনো মূহুর্তে ধ্বসে পড়তে পারে সেতুটি। ফাটল ধরেছে তলায়, পলেস্তারা খসে বের হয়ে আছে রড। কোথাও নেই লোহার অস্তিত্ব। মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। নড়বড়ে অবস্থা। অ্যাঙ্গেলগুলোই মরিচা ধরেছে। পারাপারের অনুপযোগী। সেতু নয়, এ যেন এক মরণফাঁদ। তবুও বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা।

বলছিলাম বগুড়ার ধুনট-সারিয়াকান্দি পাকা সড়কের চুনিয়াপাড়া গ্রামের চৌধুরীপাড়া এলাকায় মানাস নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কথা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে প্রায় ৪০ বছর আগে সেতুটি নির্মান করা হয়।

উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া অকলেস মোড় হতে সারিয়াকান্দি-কড়িতলা এলাকায় যাতায়াতের পথে মানাস নদীর ওপর এই সেতুটি। এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার কমপক্ষে ৫০ গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যাতায়াত করে। বিশেষ করে দুই উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন জনপদের মানুষের জন্য এই সেতুটি খুবই গুরত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিন সেতুটি সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহ আগে সেতুর মাঝখানে ভেঙে পড়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। বেরিয়ে পড়েছে রড। এছাড়া তলার নিচে বেশ কয়েক জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরেছে। প্রতিদিন ছেলেমেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য শহরে নেওয়া খুবই কষ্টকর। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে বা ধসে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। 
স্থানীয় সংবাদকর্মী গোলাম রব্বানী বলেন, এই সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ গর্তের কারণে গাড়ি নিয়ে যাতায়ত করা যায় না। রাতের আধারে পথচারীরা নিয়মিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদিনই তারা ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে এই সেতু দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। দ্রুত নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

স্থানীয় অটোরিকশা চালক আব্দুল রাজ্জাক জানান, কয়েক দিন আগে রাতে সেতু অতিক্রম করার সময় চাকা গর্তে পড়ে রিকশা উল্টে যায়। এতে তার একটি পায়ে বড়ু ধরনের আঘাত পেয়েছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অদিদপ্তরের ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেন, সেতুটির আয়ুকাল শেষ হয়ে গেছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169375