বিয়ের চাপ দেওয়ায় মা ও মেয়েকে হত্যা করে পরকীয়া প্রেমিক
ফরিদপুরের চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালীতলা এলাকায় মা ও পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে বিয়ের চাপ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাহানারা আক্তার (৩০) ও তার মেয়ে সামিয়াকে (৫) হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৭ মে) কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ মে কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় জাহানারা বেগম (৩০) ও তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত জাহানারার স্বজন মো. লালন মোল্লা বাদী হয়ে ১৬ মে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে মো. উজ্জল খান (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৪ মে রাতে চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হলে উজ্জ্বল খান প্রথমে জাহানারা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর মরদেহ গোপন করতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে কলাবাগানের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র, কোদাল, নিহতদের পরিহিত পোশাক, একটি মালা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169337