আজ বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস

আজ বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস

Hypertension বা উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক যা দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর আমাদের শরীরে থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোন আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই Brain stroke  চোখে Blindness বা অন্ধত্ব, কিডনি ড্যামেজ করতে পারে। বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি মানুষ এই রোগে মৃত্যুবরণ করে। ২০২৫ সালের ডাটা অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক প্রায় ৩৩% লোক এই রোগে আক্রান্ত। উচ্চ রক্তচাপ এর উদ্বেগজনক দিক হলো এর ব্যাপকতা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ এটি সম্পর্কে খুব কম ধারণা আছে। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর ১৭ মে World Hypertension Day  উধু পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য হলো Controlling Hypertension together  অর্থাৎ একসাথে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ। এর অর্থ হলো শুধুমাত্র ঔষধ খেয়ে নয়, বরং সুস্থ জীবনযাত্রা নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ এর মাধ্যমে আমরা এক সাথে এই রোগকে প্রতিহত করবো। 

উচ্চ রক্তচাপ ২ ধরনের প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী। সেকেন্ডারী হাইপার টেনশন ( ৫-১০%) সাধারণত কিডনিতে টিউমার, হরমোন জনিত কিছু রোগ, অতিরিক্ত ওজন যা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা করলে একবারে ভালো হয়ে যায়। প্রাইমারী হাইপার টেনশন বা এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন হলো উচ্চ রক্তচাপের এমন একটি ধরন যার কোন সুনির্দিষ্ট বা একক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না এটি সাধারণত অনেক বছর ধরে ধীরে ধীরে বিকশিত হয় যা মোট উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ৯০-৯৫ % ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি মূলত জিনগত কারণ, বয়স এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সমন্ময়ে হয়ে থাকে। প্রাইমারি Hypertension  যার অন্যতম কারণ হলো ভ্রান্ত Life style  আবার যে সকল Life Style Disease আছে যেমন Fatty liver. Diabetic. Obesity. অতিরিক্ত Cholesterole. এদের মধ্যে Hypertension অন্যতম। উচ্চ রক্তচাপ বা Hypertension মূল কারণ হলো ।


১. নেতিবাচক জীবন যেমন- হতাশায় ভোগা, অতীত ব্যর্থতা নিয়ে পরে থাকা, বড় কিছু পাওয়ার বা হওয়ার প্রতিযোগিতা, অন্ধকারাচ্ছন্ন মানসিকতা। অবৈজ্ঞানিক খাদ্যাভাস।  পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম না করা ।  অতিরিক্ত ওজন / মুটিয়ে হওয়া, মানসিক চাপ/ টেনশন অথবা stress । Hypertension হওয়া মানেই আমি Heart attack. Heart Failure, Kidney, Stroke ইত্যাদি এর রোগী, আজ হোক আর আগামিকাল হোক, যে কোন যে কোন সময় তা আসতে পারে । আমার কাজ হলো যেন তা না হয় বা দেরীতে হয়, তার জন্য জীবনযাপন পরিবর্তন করা । প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করা, আর এটার জন্য দরকার ৩ D (Discipline, Diet and Drug)  চলাফেরায় ডিসিপ্লিন, হাঁটাহাঁটিতে ডিসিপ্লিন, খাবারে ডিসিপ্লিন। 

মনকে ভাল রাখা, আনন্দে থাকা, আর তৃতীয়টি হলো ঔষধ। আমাদের সকলের একটা ধারণা আছে এই রোগের চিকিৎসা হলো শুধুমাত্র ঔষধ। নিয়ন্ত্রণ হবে? না, কোনদিনই নিয়ন্ত্রণে আসবে না। বাংলাদেশের ২০২৩ সালে ডাটা বলছে ঔষধ খেয়ে ৮৮% মানুষ এর প্রেসার নিয়ন্ত্রণে নেই। আসলে এটা একটা Life style disease। তাহলে কি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না ? অবশ্যই সম্ভব It is preventable or reversable। সেটা কিভাবে ? জীবন থেকে বাদ দিতে হবে Refined কার্বোহাইড্রেট যেমন চিনি, সাদা ময়দা, সাদা চাল এর বদলে খেতে হবে লাল চাল, লাল ময়দা । বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার যেমন Fast Food, Soft Drinks,  সিংগারা, পুরি, পিয়াজু, বাদ দিতে হবে তার পরিবর্তে কিছু ডাল, বাদাম, Fresh Juice যেমন পুদিনা পাতার, থানকুনি পাতার, আমলকি, তুলসী পাতার জুস খেতে হবে । বিট রুটে অনেক পটাশিয়াম আছে যা BP কমাতে সাহায্যে করে । ধুমপান বর্জন করতে হবে। অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ কমপক্ষে ৭-৯ ঘুমাতে হবে অতিরিক্ত লবন পরিহার করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে এবং অতিরিক্ত Tension Stress কমাতে হবে। 

যেমন Meditation, yoga  বা যোগ ব্যায়াম। Spending quality with family, Connects with friends, Spending time with nature, By listening music, engage in hobby. 

লেখক :

ডাক্তার অলোক চন্দ্র সরকার

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
কার্ডিওলজি বিভাগ
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বগুড়া।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169298