দিনাজপুরের কাহারোলে জমে উঠেছে কোরবানির পশু বেচা-কেনার হাট

দিনাজপুরের কাহারোলে জমে উঠেছে কোরবানির পশু বেচা-কেনার হাট

কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ঈদুল-আযহা বা কোরবানি সামনে রেখে দিনাজপুরের কাহারোলে জমে উঠেছে কোরবানির পশু বেচা-কেনার হাট। উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার সদরে অবস্থিত কাহারোল হাটে গরু-ছাগল, মহিষ ও ভেড়া বিক্রিতে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী  ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী জেলা ও উপজেলার অর্ধ লাখ মানুষের ভিড় জমে আজ শনিবার (১৬ মে) কাহারোলের এ হাটে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা কোরবানির গরুর হাটে পশু কেনা-বেচার করার জন্য আসেন। ক্রেতাদের এ হাট থেকে পশু কিনে পরিবহণযোগে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এদিকে আজ শনিবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় এ হাটে দেখা যায়, প্রায় ২-৩ একর জায়গার উপর অবস্থিত কাহরোল পশুর হাটটি। কোরবানির জন্য বিক্রির আশায় অনেক বিক্রেতা সকালেই গরু ও ছাগল নিয়ে হাটে পৌঁছায়। সকাল থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত কোরবানির গরু-ছাগল ও মহিষ পুরাদমে বিক্রি শুরু ও শেষ হয়ে যায়।

এই কাহারোল পশুর হাটে রাজধানী ঢাকা, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালি, সিলেট, নেত্রকোণা, শেরপুর, যশোর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশু গরু-ছাগল, মহিষ ও ভেড়া কিনতে চলে আসেন।

গরু বিক্রেতা মো: মাইনুদ্দীন জানান, দুপুর ১২টার মধ্যে ৬টি গরু বিক্রি করা হয়েছে আর মাত্র ১টি গরু আছে, বিক্রিত ৬টি গরুতে আমার লাভ হয়েছে ২৫ হাজার টাকার মতো। আরেক গরু বিক্রেতা মো: হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা ৪ জনে ৮টি গরু নিয়ে এসেছি এ হাটে। সেগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর পশুর মূল্য কিছুটা কম থাকায় হাটে ক্রেতারা দেখে শুনে কোরবানির জন্য তাদের পছন্দের পশু কিনছেন।

কাহারোল হাটের ইজারাদার শ্যামল রায় জানান, কাহারোল গরু-ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার হাটে অনেক ঐতিহ্যবাহী ও সুনাম রয়েছে পূর্ব থেকে আজ পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু ব্যবসায়ীরা এখানে গরু, মহিষ, ছাগল ক্রয় করতে আসেন প্রতি শনিবারের দিন।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডাক্তার মো: আবু সরফরাজ হোসেন জানান, অত্র উপজেলায় এ বছর কোরবানি ঈদের জন্য ২৫ হাজার ৪৩১টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে চাহিদা রয়েছে ১৬ হাজার ৭৫০টি। অতিরিক্ত ৮ হাজার ৬৮১টির মতো। আজ শনিবার (১৬ মে) কাহারোল হাটে কোনো পশু অসুস্থ হলে সাথে সাথে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান হয়ে থাকে।

কোরবানির পশুর হাট বিষয়ে উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোকলেদা খাতুন মীম বলেন, গরুর হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। আমি নিজেই সার্বক্ষণিক এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা কোরবানির পশু ক্রেতাদের যাতে কোনো ধরণের সমস্যা না হয়, সেই দিকে নজরদারি রয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এই গরুর হাটে কোরবানির সময় ২০-২২ হাজারেও অধিক গরু-ছাগল, মহিষ ও ভেড়া বিক্রি হয়ে থাকে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169243