নওগাঁর রাণীনগরে সালিশি বৈঠকে সংর্ঘষ, আহত ১৫

নওগাঁর রাণীনগরে সালিশি বৈঠকে সংর্ঘষ, আহত ১৫

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে সালিশি বৈঠকের সংর্ঘষে উভয় পক্ষের প্রায় ১৫জন আহত হয়েছে। আহতদের রাণীনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের ভান্ডারগ্রাম নওপুকুরিয়া গ্রামে। এঘটনায় ওই এলাকায় পক্ষে বিপক্ষে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উপজেলার পারইল ইউনিয়নের নওপুকুরিয়া গ্রামের মজিবর কাজীর ছেলে ফারেস কাজী(৩২) জানান, এই গ্রামের এছাহক ফকিরের ছেলে আদম ফকির(২৫) বিদেশ থেকে গত ১৫ দিন আগে দেশে আসে। তার ১ম স্ত্রী থাকার পরেও ৪০-৪৫ বছর বয়সি এক নারীকে ২য় বিয়ে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে, দুই দিন আগে ওই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে আসে। এঘটনায় ওই মেয়ে পক্ষের লোকজন গতকাল শুক্রবার রাতে এছাহক ফকিরের খলিয়ানে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে।

ওই বৈঠকে মেয়ে পক্ষের লোকজন কাজী বংশের লোকজনকে সহায়তা করার জন্য ডেকে নেয়। এতে ১ম পক্ষের স্ত্রীর স্বজনরাও উপস্থিত ছিল। বৈঠকে ১ম স্ত্রীর বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্র না থাকায় ১ম স্ত্রীর পক্ষের লোকজন ২০লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য্য করে কাবিন রেজিস্ট্রির দাবি জানায়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে ১২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে বৈঠকেই কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

এরপরই কাজী বংশের লোকজন এবং এছাহক ফকিরের লোকজনের মধ্যে কথা কাটা-কাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। ফারেস কাজী দাবি করে বলেন, এঘটনার জের ধরে আজ শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টায় আব্দুস সাত্তার কাজীর ছেলে রুহুল আমিন কাজী(৩০) এছাহক ফকিরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাবার সময় এছাহক ফকির ও তার লোকজন রুহুল আমিনকে মারধর শুরু করে।

এমন খবর ছড়িয়ে পরলে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে আব্দুল কুদ্দুস কাজী(২৮), জাহাঙ্গীর(৩৬), নুর ইসলাম(৩৮), হেলাল(৪২), রেজাউল ইসলাম রাব্বানী(৩৮), ফাহিম  (২৬), শিহাব কাজী(১৫), আসমা খাতুন(৪০) ও দিলবর (৪৫) এছাহক ফকির (৫৫), ইসরাফিল(৩৫), জাহিদুল(৪২), রিপন(১৮), আব্দুল(৩২) ও জিয়াউর ফকিরসহ(৪০) উভয় পক্ষের প্রায় ১৫জন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাণীনগর ও আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করা করায়।

এঘটনায় এছাহক ফকির বলেন, গতকাল শুক্রবার রাতে সালিশ বৈঠকে কাজী পরিবারের লোকজনের সাথে দ্বন্দ্ব হয়েছে। আমরা আগে মারধর করিনি দাবি করে তিনি বলেন, রাতে সালিশ বৈঠকে জের ধরে আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে হঠাৎ করেই তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের পক্ষের ৬জন আহত হয়েছে।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে  পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত আছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এঘটনায় এখনো কোন পক্ষই অভিযোগ করেনি।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169217