নাটোরের লালপুরে একসাথে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মা-ছেলে
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে এবছর একসাথে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মা ও ছেলে। জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ৪২ বছর বয়সে পরীক্ষার হলে বসেছেন ফুলঝড়ি বেগম। তার পাশে পরীক্ষার্থী হিসেবে রয়েছেন ছেলে মনিরুজ্জামান (১৫)।
মা-ছেলের বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে। তারা দু’জনই মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তারা উপজেলার মধুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার কারণে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন ১৯৯৭ সালে ফুলঝুড়ি বেগমের বিয়ে হয়। এরপর দীর্ঘদিন পড়াশোনা থেকে দূরে থাকলেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ কখনও কমেনি। ছেলের পড়াশোনার অনুপ্রেরণায় আবারও বই হাতে তুলে নেন তিনি।
ফুলঝুড়ি বেগম বলেন, ‘সংসারের নানা কারণে সপ্তম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। তবে পড়াশোনার ইচ্ছাটা সব সময় ছিল। পরে ছেলের সাথে আবার ভর্তি হই। ছেলের পাশে বসে পড়তে পড়তেই সাহস পেয়েছি। এখন একসাথে পরীক্ষা দিতে পারছি এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমি বুঝতে পেরেছি, পড়াশোনার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়।
ছেলে মনিরুজ্জামানও মায়ের এ উদ্যোগে গর্বিত। সে বলে, ‘মা শুধু মা নন, তিনি আমার সহপাঠীও। আমরা একসাথে পড়েছি, এখন একসাথে পরীক্ষা দিচ্ছি। এটা আমার জন্য অনেক গর্বের।
ফুলঝুড়ি বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম বলেন, ভ্যান চালানোর পাশাপাশি গরু-ছাগল পালন করে সংসার চালাই। বড় মেয়েকে নার্সিং পড়িয়েছি, সে এখন ঢাকার একটি ক্লিনিকে চাকরি করছে। এ বছর স্ত্রী ও ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তাহানুর ইসলাম বলেন, শিক্ষা গ্রহণে বয়স নয়, ইচ্ছা শক্তিই সবচেয়ে বড় বিষয় ফুলঝুড়ি বেগম সেটিই প্রমাণ করেছেন। মা-ছেলের এই উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, এটি শুধু লালপুর নয়, সারাদেশের জন্য নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। বয়স কখনও শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পড়াশোনায় সহযোগিতা করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/169074