রংপুরের গঙ্গাচড়ার ৩৬ কমিউনিটি ক্লিনিকে সাত মাস ধরে ওষুধ সংকট
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল এসব ক্লিনিকে গিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে খালি হাতেই ফিরছেন রোগীরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা ভিড, এক সময় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ২৭ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হলেও পরে তা কমিয়ে ২২ প্রকারে আনা হয়। বর্তমানে অধিকাংশ ক্লিনিকে গর্ভবতী নারীদের জন্য আয়রন ও অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট ছাড়া তেমন কোনো ওষুধ নেই। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ ক্লিনিকের ওষুধের আলমারি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। উপজেলায় প্রায় প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য একটি করে মোট ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এসব ক্লিনিকে ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই ওষুধ অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর চলতি বছরে নতুন করে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না আসায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
দক্ষিণ কোলকোন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নিতে আসা নুরজাহান বেগম নামে এক রোগী বলেন, আগে এখানে ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, ব্যথা, গ্যাস, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়া যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। ওষুধ নিতে এলেই বলা হয়, ওষুধ সরবরাহ নেই। আমরা গরিব মানুষ, বাইরে থেকে বেশি টাকা দিয়ে ওষুধ কিনতেও পারি না। একই অভিযোগ করেন ভুটকা কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকার বিউটি বেগম।
দক্ষিণ কোলকোন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, প্রায় সাত মাস ধরে কোনো ওষুধ পাইনি। প্রতিদিন জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, দুর্বলতাসহ নানা সমস্যার রোগী আসে। কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় রোগীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে আমাদেরও বিব্রত হতে হচ্ছে। তবে আমরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরামর্শ দিচ্ছি। গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে দীর্ঘদিনের সংকটের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে এক কার্টন করে ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাশার বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট থেকে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। ট্রাস্ট থেকে ওষুধ না আসায় কয়েক মাস ধরেই সংকট চলছে। তবে কিছু ওষুধ এসেছে। উপজেলার প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে এক কার্টুন করে ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168954