বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালি নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে দুই সেতু

বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালি নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে দুই সেতু

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : ‘দৈনিক করতোয়া’য় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে বহুল আলোচিত দুটি খেয়াঘাটে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ হতে যাচ্ছে। ব্রিজ দু’টি নির্মিত হলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে।

ওই দুটি খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘ দিনের। এ সংক্রান্ত একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের নজরে আসে। এরপর তিনি ওই দু’টি খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডিও লেটার দেন। এরপর ওই দু’টি খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণে প্রকল্পভুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে পল্লি সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প এলজিইডি’র সদর দপ্তরের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মাদ জিয়াউল ইসলাম মজুমদার স্বাক্ষরিত একটি পত্রে ওই দুটি খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই দুটি খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণ করতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা।

এতে করে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জনমানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া বাঙালি নদীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি পয়েন্টে সেতু নির্মাণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পভুক্ত হয়েছে ব্রিজ দুটি। এছাড়াও ব্রিজে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ নির্ধারণে মাপজোখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঙালি নদীর ওপর যে দুটি সেতু নির্মিত হতে যাচ্ছে তা হলো সোনাতলা উপজেলার সাতবেকী জিপিএস-মোনারপটল ঘাট ভায়া মোনারপটল জিপিএস সড়কে বাঙালি নদীর পের ৩শ’ মিটার ও চরপাড়া-হাটশেরপুর ইউনিয়ন ভায়া করমজাহাট সড়কে বাঙালি নদীর ওপর আরেকটি ৩শ’ মিটার ব্রিজ।

এই দুটি সেতু নির্মিত হলে সোনাতলা উপজেলার সাথে পার্শ্ববর্তী সারিয়াকান্দি এবং গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। বর্তমানে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে নৌকায় পারাপার হতে হয়, যা বর্ষাকালে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময়সপেক্ষ হয়ে দাঁড়ায়।

সেতু দুটি নির্মিত হলে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল যেমন মরিচ, ভুট্টা ও আলু দ্রুত সময়ের মধ্যে হাট-বাজারগুলোতে পৌঁছে দিতে পারবেন। বিপ্লব ঘটবে কৃষিপণ্যের পরিবহনে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকরা সরাসরি ন্যায্যমূল্য পাবেন। যাতায়াত সহজ হওয়ায় নদীপারের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চিরতরে দূর হবে। রোগীদের দ্রুত সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীপারের বাসিন্দারা জানান, সেতু হওয়া মানে আমাদের ভাগ্য খুলে যাওয়া। বাপ-দাদারা নৌকায় পাড়ি দিয়ে কষ্ট করেছেন, আমরাও করেছি। এখন আমাদের সন্তানদের আর সেই কষ্ট করতে হবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম ওই দুটি খেয়া ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর ডিও লেটার দেওয়ার পর ব্রিজ নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এমনকি ব্রিজ দুটি প্রকল্পভুক্ত হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168850