কোরবানির হাটে সুস্থ পশু চেনার উপায়

কোরবানির হাটে সুস্থ পশু চেনার উপায়

পবিত্র ঈদুল আজহা দরজায় কড়া নাড়ছে। পশুর হাটে ভিড় বাড়ার আগেই জেনে নেওয়া জরুরি কোনটি প্রাকৃতিকভাবে বড় হওয়া সুস্থ পশু, আর কোনটি কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া সুস্থ পশু চেনার এবং সতর্ক থাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।


১. কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা পশু চেনার লক্ষণ

অসাধু উপায়ে স্টেরয়েড বা হরমোন প্রয়োগ করা পশু চেনার উপায়গুলো হলো:

নাক ও মুখ: সুস্থ পশুর নাক ভেজা থাকলেও এসব পশুর নাক সাধারণত শুকনো থাকে। মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হতে পারে।

শারীরিক গঠন: শরীর অস্বাভাবিক ফোলা বা থলথলে দেখাবে। আঙুল দিয়ে চাপ দিলে ওই স্থান দেবে যাবে এবং আগের অবস্থায় ফিরতে সময় নেবে।

আচরণ: পশুটি অলস ও ক্লান্ত থাকবে। খুব দ্রুত হাঁপিয়ে যাবে এবং ঠিকমতো জাবর কাটবে না। অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতেও এদের কষ্ট হয়।

মাংস ও হাড়: পেছনের রানের মাংস অস্বাভাবিক নরম হবে এবং হাড় বেশ দুর্বল থাকে।

২. সুস্থ ও চনমনে পশুর বৈশিষ্ট্য
উজ্জ্বল চোখ: সুস্থ গরুর চোখ সবসময় উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকবে।

চটপটে স্বভাব: খাবার দেখলে আগ্রহ দেখাবে এবং চারপাশের পরিবেশ নিয়ে সতর্ক থাকবে।

নাক ও চামড়া: নাকের উপরের অংশ (মাজল) ভেজা বা ঘামযুক্ত থাকবে। গায়ের চামড়া হবে টানটান ও চকচকে।

তাপমাত্রা: যদি সন্দেহ হয়, তবে কানের গোড়ায় হাত দিয়ে তাপমাত্রা অনুভব করা যেতে পারে (অস্বাভাবিক গরম হলে পশুটি অসুস্থ হতে পারে)।

খামারিদের জন্য পরামর্শ: বৈজ্ঞানিক উপায়ে মোটাতাজাকরণ
ড. আলম মিয়া জানান, স্টেরয়েড (যেমন: ডেক্সামেথাসন) পশুর লিভার ও কিডনি নষ্ট করে দেয়। প্রাকৃতিকভাবে গরু মোটাতাজা করতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:

নির্বাচন: ২ থেকে ৪ বছর বয়সী স্বাস্থ্যবান গরু বেছে নিন।

স্বাস্থ্যসেবা: নিয়মিত কৃমিনাশক প্রয়োগ ও পরিষ্কার পরিবেশ নিশ্চিত করুন।

সুষম খাদ্য: ঘাসের পাশাপাশি ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স ও সুষম দানাদার খাদ্য সরবরাহ করুন। ৩ থেকে ৬ মাসেই সুস্থভাবে পশু মোটাতাজা করা সম্ভব।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168794