বগুড়ার সারিয়াকান্দি অর্ধশত রকমের ফলে ভরে উঠেছে আব্দুর রহমানের বাড়ির ছাদ
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বাড়ির ছাদে অর্ধশত ফল আর সবজির বাগান করে এলাকায় সারা ফেলেছেন বগুড়া সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান। শখের বসে ছাদ বাগানে সফল হয়ে তিনি এখন বাণিজ্যিক চাষের স্বপ্ন দেখছেন। ছাদের আঙ্গুরেও এসেছে মিষ্টতা। তার ছাদবাগান দেখতে আশেপাশের লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন এবং এ ধরনের বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দুইতলা বাড়ির ছাদে ঝুলছে বাইকুনো, এ্যাপোলো, ব্লাক ম্যাজিক, গ্রিন লং, ভ্যালেজসহ প্রায় ১৪ জাতের আঙ্গুর। আঙ্গুরগুলো সবেমাত্র পাকতে শুরু করেছে এবং তাতে এসেছে মিষ্টতা।
মাত্র চারফুট গাছে ধরে আছে থোকায় থোকায় বাতাবিলেবু, তার চেয়ে ছোট গাছে ধরে আছে সৌদি আরবের মিষ্টি তেঁতুল, ছোট গাছে ধরে আছে লাল কালো এবং সাদা পেয়ারা, সফেদার গাছে ধরেছে দৃষ্টিনন্দন সফেদা, বেশ বড় হয়েছে আপেল গাছ, পেঁপে গাছে ধরে আছে পেঁপে, কয়েকবছর ধরেই মরিচ গাছে ধরছে মরিচ, ড্রাগন গাছে সবেমাত্র ফুল ধরতে শুরু করেছে, ছোট জাম গাছে ফুল এসেছে, দুই প্রকারের লেবুর গাছে ধরে আছে থোকায় থোকায় লেবু, আমলকি ও আমরা গাছেও ফুল এসেছে, কয়েকদিন পরই জলপাই গাছে জলপাই ধরবে, এছাড়াও একই বাগানে রয়েছে কয়েক প্রকারের সবজি।
এ চিত্র বগুড়া সারিয়াকান্দির পৌর এলাকার আন্দরবাড়ি গ্রামের। এ গ্রামের মৃত আব্দুল বাকির ছেলে আব্দুল রহমান ছাদ বাগান করে সফল হয়েছেন। ছাদে তিনি বাগানের পাশাপাশি প্রায় ৬ প্রজাতির ৬০টির বেশি কবুতরও লালন পালন করছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফল, সবজি এবং কবুতর খাওয়ার পাশাপাশি তিনি এসব পণ্য বাজারেও বিক্রি করছেন। শখের বসে ছাদ বাগান করে সফল হয়ে, আব্দুর রহমান এখন বাণিজ্যিক চাষের স্বপ্ন দেখছেন।
আব্দুর রহমানের ছাদ বাগান দেখতে আসছেন আশেপাশের লোকজন। তার এই সফলতা দেখে অনেকেই তাদের নিজেদের ছাদে বাগান করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। এর আগেও সারিয়াকান্দিতে অনেকেই আঙ্গুর চাষ করেছেন। কিন্তু তাদের আঙ্গুরে কোনও মিষ্টতা আসেনি। তবে আব্দুর রহমানের ছাদ বাগানের প্রতিটি আঙ্গুরেই মিষ্টতা এসেছে। এটিকে একটি বড় সফলতা হিসেবে বিবেচনা করছেন স্থানীয় কৃষি অফিস।
আব্দুর রহমান বলেন, লেখাপড়া শেষ করে পৌর মার্কেটে কসমেটিকস এর দোকান দিয়েছি। পাশাপাশি নিজের বাসাবাড়ির ছাদে বাগান করেছি। সেখানে নানা ধরনের প্রায় ৫০টির বেশি প্রজাতির ফল ও সবজির চাষ করেছি। বাগানে প্রতিদিন সকালে এবং বিকেলে কাজ করি। এতে আমার বাসার ছাদ ঠান্ডা থাকছে, বাজার থেকে ফরমালিন যুক্ত ফল কিনে খেতে হচ্ছে না, বাড়তি ফল বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছি এবং বাগানে কাজ করার ফলে আমার শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকছে।
সবচেয়ে খুশির সংবাদ হচ্ছে, আঙ্গুর ফলে আমি মিষ্টতা পেয়েছি। তাই আগামীতে বাণিজ্যিক আকারে চাষ করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান বলেন, আব্দুর রহমানের ছাদ বাগান দেখে আমার একেবারে ধারনাই পাল্টে গেছে। তার বাগানের আঙ্গুর খেলাম এবং তাতে বাজারের আঙ্গুরের মতোই মিষ্টতা পেলাম। বাগানে ছোটছোট গাছে নানা ধরনের পর্যাপ্ত ফল ধরেছে। আমার বাড়ির ছাদেও এ ধরনের বাগান করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুদরত আলী বলেন, আব্দুর রহমানের ছাদ বাগানের মাধ্যমে একদিকে তার পরিবারের ফলের চাহিদা মিটছে এবং অপরদিকে তার বাড়ির ছাদ সবসময় ঠান্ডা থাকছে। তাছাড়া এ থেকে তিনি বাড়তি আয়ও করছেন। আব্দুর রহমানের মতো ছাদবাগান করতে এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তার ছাদবাগান থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পরিবেশে যুক্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে। উপজেলায় তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি তার উৎপাদিত আঙ্গুর গাছে আঙ্গুরের মিষ্টতা আনতে সক্ষম হয়েছেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168722