বগুড়ার সোনাতলায় শ্রমিক সংকটে পাকা ধান মাঠেই ঝড়ে যাচ্ছে
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : সোনাতলায় চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ থাকলেও শ্রমিকের তীব্র সংকটে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না তারা। ফলে অনেক কৃষকের ক্ষেতের পাকা ধান মাঠেই ঝরে যাচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্তজোড়া মাঠে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারণ করেছে। অধিকাংশ ধান কাটার উপযোগী হয়ে পড়লেও শ্রমিকের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরে থেকে আসা শ্রমিকের সংখ্যাও এবার অনেক কম।
একজন ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, ধান একদম পেকে সোনাবর্ণ হয়ে গেছে। ক’দিন ধরে শ্রমিক খুঁজছি, কিন্তু কাউকে পাচ্ছি না। ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষেতেই ধান ঝরে পড়ছে। এভাবে আরও কয়েকদিন গেলে লাভ তো দূরের কথা, খরচের টাকাও উঠবে না। শ্রমিক সংকটের সুযোগে মজুরির হারও বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। যে শ্রমিক আগে ৫-৬শ’ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তাদের জনপ্রতি ৮শ’ থেকে হাজার টাকা দিয়েও পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে দুপুরের খাবার ও যাতায়াত খরচ।
ছোট ও মাঝারি কৃষকরা এই উচ্চমূল্যের মজুরি দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, বেশকিছু কারণে এই সংকট প্রকট হয়েছে। উপজেলার সব এলাকার ধান প্রায় একই সাথে পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। অনেক কৃষিশ্রমিক জীবিকার তাগিদে শহরমুখী হয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হওয়ায় কৃষিখাতে শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, কৃষকদের ধৈর্য্য ধরার পাশাপাশি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে কম সময়ে ও কম খরচে ধান কাটার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। তবে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাব ও উঁচু-নিচু জমির কারণে সব কৃষক এই সুবিধা নিতে পারছেন না।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168708