ঈদযাত্রায় সড়ক নিরাপত্তায় দায় এড়ানোর সুযোগ নেই : সেতুমন্ত্রী

ঈদযাত্রায় সড়ক নিরাপত্তায় দায় এড়ানোর সুযোগ নেই : সেতুমন্ত্রী

আসন্ন ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে সড়ক নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেছেন, সড়ক ব্যবস্থাপনা শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব নয়; হাইওয়ে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, বিআরটিএ, এলজিআরডিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। দায় নিতে আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু সবকিছু যে আমার একার নিয়ন্ত্রণে নয়, সেটাও বুঝতে হবে।

আজ (সোমবার) সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদ যাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩৮৪ জন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ঈদুল ফিতরের ১১ দিনে সারা দেশে ১৭০ জন নিহত হন। এর মধ্যে হাইওয়েতে নিহত হন ৪৩ জন।

তিনি বলেন, দেশের মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ, ব্যাটারিচালিত যানবাহন এবং ছোট রাস্তা থেকে সরাসরি ৯০ ডিগ্রিতে মহাসড়কে ওঠা দুর্ঘটনার বড় কারণ। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এসব সংযোগ পথকে ‘লেফট লেন’ পদ্ধতিতে আনার কাজ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রাস্তা ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত বিষয়। আমি মহাসড়ক তৈরি করি, এলজিআরডি স্থানীয় সড়ক তৈরি করে। আবার রুট পারমিট দেয় কমিটি, বিআরটিএ গাড়ির ফিটনেস দেয়, হাইওয়ে পুলিশ তদারকি করে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলেই সব দায় এসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওপর পড়ে।

তিনি বলেন, দায় নিতে আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু সবকিছু যে আমার একার নিয়ন্ত্রণে নয়, সেটাও বুঝতে হবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কুমিল্লায় একটি দুর্ঘটনায় স্থানীয় সড়ক ৯০ ডিগ্রি কোণে মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটে। এ ধরনের নকশাগত ত্রুটি এলজিআরডির আওতায় হলেও প্রশ্নের মুখে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কেই পড়তে হয়।

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআই ক্যামেরা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তবে এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সবকিছু একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে করতে হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে ৬৯টি মোবাইল টিম, হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএর বিশেষ টিম মাঠে থাকবে। ভাড়া আদায়ে অনিয়ম বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168519