বগুড়ায় মাদককারবারি ও সেবনকারীদের অত্যাচার-উপদ্রবে অতিষ্ঠ শান্তিকামী মানুষ

বগুড়ায় মাদককারবারি ও সেবনকারীদের অত্যাচার-উপদ্রবে অতিষ্ঠ শান্তিকামী মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর অভিযান সত্ত্বেও বগুড়ায় থেমে নেই মাদক কারবার। প্রকাশ্যে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে কারবারিরা। মাদককারবারি ও সেবনকারীদের অত্যাচার-উপদ্রবে অতিষ্ঠ শান্তিপ্রিয় মানুষ। মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে মাঠে নেমেছেন শহরের ফুলবাড়ীবাসী।

বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ফুলবাড়ি মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো: তৌহিদুল ইসলাম বিটু বলেন, তার এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কারবার চলছে। চিহিৃত মাদকব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের অত্যাচার-উপদ্রবে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তিনজন মাদকডিলার ও ১৫ জন খুঁচরা বিক্রেতা ফুলবাড়ি, মধ্যপাড়া, পাইকাড়পাড়া, সোলাগাড়ি ভাটা এলাকায় প্রকাশ্যে মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করে আসছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদককারবারিরা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে আসলেও ফুলবাড়ি ফাঁড়ি পুলিশের তেমন তৎপরতা নেই। ফাঁড়ি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে মাদক ব্যবসায়ীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এলাকায় মাদক নির্মূলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চেয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষ মাদকবিরোধী আন্দোলনে নেমেছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে এলাকাবাসী গত শুক্রবার বাদ জুম্মা ফুলবাড়ি মধ্যপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধ ও মাদকব্যবসায়ী-সেবনকারিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মিছিল করেন।

এতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লিসহ এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন। সবেক কাউন্সিলর বিটু আরো বলেন, তাদের এই আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে চলবে। মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে তারা ১৫ মে শুক্রবার বাদ জুম্মা আবারও মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আলমাস আলী সরকার বলেন, ফুলবাড়ি এলাকায় আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। প্রায়ই মাদককারবারি ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করছি। পুলিশের নিষ্ক্রিয় থাকার কোন সুযোগ নেই।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের চকসুত্রাপুর, হাড্ডিপট্টি, চকসূত্রাপুর রানার সিটির সামনে সুইপার কলোনী, সেউজগাড়ী সুইপার কলোনী, সেউজগাড়ী আমতলা সংলগ্ন রেলওয়ে বস্তি ও সেউজগাড়ী পালপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা রমরমা।

স্থানিয়রা বলেন, হাড্ডিপট্টিতে বিভিন্ন স্পট ছাড়াও রেল লাইনের ওপর যেন মাদকের হাট বসে। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হাড্ডিপট্টির বিভিন্ন স্পটে মাদকের কারবার চলে।  প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও হাড্ডিপট্টির বিভিন্ন মাদক স্পট চালু আছে। হাড্ডিপট্টির কয়েকটি বস্তি, অলিগলিতে রমরমা মাদকের কারবার চলে।

এছাড়া হাড্ডিপট্ট্রিতে রেল লাইনের ওপর ও রেল লাইনের আশেপাশে মাদকের রীতিমত হাট বসে। সেখানে নারী ও টোকাই মাদককারবারিরা মাদকের ব্যবসা করে। সেখানে সববয়সী মাদক সেবনকারীরা এসে মাদক সংগ্রহ করে। সেখানে মাদক সংগ্রহ করে স্কুল ছাত্র, কিশোর, যুবা অনেকে।

শুধু হাড্ডিপট্টিই নয়, সেউজগাড়ী আমতলা রেলওয়ে বস্তি, সেউজগাড়ী পালপাড়া, রেল স্টেশন সড়কে হরিজন কলোনীর আশেপাশে, চকসুত্রাপুর হরিজন কলোনীর সামনে, পুরান বগুড়া, উত্তর চেলোপাড়া, মালগ্রাম, সুলতানগঞ্জপাড়া, ঘোনপাড়া, বৃন্দাবনপাড়া, কাটনারপাড়া, ফুলবাড়ি, চকসুত্রাপুরসহ শহরের বিভিন্নস্থানে বিভিন্ন স্পটে মাদকের কারবার চলছে।

এ ছাড়া অনলাইনে মাদক কেনা-বেচা চলে। মাদক কারবারিদের খপ্পড়ে পড়ে যুবসমাজ ধংস হয়ে যাচ্ছে। শুধু শহরেই নয় বগুড়ার ১২টি উপজেলা সদর ও প্রত্যন্ত গ্রামেও মাদকের কারবার চলছে। মাদকের বিষে নীল হয়ে যাচ্ছে গ্রামের কিশোর-যুবকরাও।

এ ব্যাপারে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মাদক কারবারিদের গ্রেফতার ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হচ্ছে। প্রতিমাসে একশ’র বেশি মাদক মামলা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ১০৪টি ও এপ্রিল মাসে ১২৬টি মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

এসব মামলায় ২শ’র বেশি মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। মাদক নির্মূলে এলাকাবাসীর সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168420