পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণকাজ, জনদুর্ভোগ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণকাজ, জনদুর্ভোগ

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার খড়খড়ি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। এক দফা সময় বাড়ানোর পরও সেতুর প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। এতে নদী পারাপারে চরমদুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্ক মানুষ। 

আজ শনিবার (৯ মে) উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পিলার নির্মাণ শেষ হলেও একটি মাত্র স্প্যান বসানো হয়েছে। অন্য স্প্যানের কাজ চলছে ধীরগতিতে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আগে পারাপারের জন্য পাশে একটি বাঁশের সাঁকো থাকলেও নির্মাণকাজের সময় সেটি ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে স্থানীয়দের হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, উমেষের ডাঙ্গা এলাকার খড়খড়ি নদী পার হয়ে সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের ৪, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ ছাড়াও পাশের দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার বাদশা বাজার ও ভবানীগঞ্জ এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল ও উপজেলা সদরে যেতে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এছাড়া শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। 

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদেক বলে, নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কাপড় ভিজে যায়, আবার পানিতে নামার কারণে হাত-পা চুলকায়। স্থানীয় যুবক মাজেদুল ইসলাম বলেন, দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো সেতুর কাজ শেষ হয়নি। বিকল্প রাস্তা না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে নদী পেরিয়ে চলাচল করছে। 

ভ্যানচালক আলমগীর জানান, পানি বেড়ে যাওয়ায় ভ্যান নিয়ে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৃষিপণ্য পারাপারেও ভোগান্তি বাড়ছে। অন্তত অস্থায়ী একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের দাবি জানান তিনি। 

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ‘ওজওউচ-৩’ প্রকল্পের আওতায় ৬ কোটি ৩০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৪ টাকা ব্যয়ে খড়খড়ি নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড। 

সূত্র আরও জানায়, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে কাজের ধীরগতির কারণে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। তবে বর্ধিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি। 

সংশ্লিষ্ট উপ-ঠিকাদার রাসেল ইসলাম বলেন, মূল ঠিকাদার দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে। পরে তাকে কাজ সম্পন্নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। বর্ষাকালে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168180